টেকনাফে পুড়ে গেছে বার্মিজ মার্কেটের শতাধিক দোকান। এতে শতাধিক দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। টেকনাফ পৌর মেয়র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃংখলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, বৃহস্পতিবার ৬ জুলাই রাত ২টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপরের বাজার এলাকার বার্মিজ মার্কেটে এই অগ্নিকান্ড ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বার্মিজ মার্কেট ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ৬ জুলাই রাত ২টার দিকে বামিজ মার্কেটের কেন্দ্রীয় বিষ্ণু মন্দির সংলগ্ন একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই মার্কেটে কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিক্স, কম্বল, আচার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রীর দোকান-পাট ছিল। মার্কেটের ১৫০টি দোকানের মধ্যে ১০৪টির মত দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে’।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. আলমগীর বলেন, ‘আমার দোকানের প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনো জিনিস-পত্র বের করা সম্ভবও হয়নি। কোরবানির আগে টাকা ধার নিয়ে বেশ কিছু মালামাল উঠানো হয়েছিল তার অধিকাংশই পুড়ে গেছে’।
বার্মিজ মার্কেট ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও এ মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিল। আগুন নিভাতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে’।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মুকুল কুমার নাথ বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। প্রায় তিনঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। অগ্নিকান্ডে এ মার্কেটের ১০৪টি দোকান পুড়ে গেছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা টাকার অংকে তাৎক্ষণিক নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি’।