• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

পাহাড়খেকোকে রক্ষায় রেঞ্জ কর্মকর্তা : পিএমখালীতে পাহাড় কাটছেন ৫ মামলার আসামি

নিজস্ব প্রতিদেক / ১৫৫৬ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২
এভাবে পিএমখালীতে চলছে পাহাড় কাটা।

বিশেষ প্রতিনিধি:
তিনটি ডাম্প ট্রাকে দিনে-রাতে বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মাটি ফেলা হচ্ছে নিচু জমির প্লট ভরাটের কাজে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ তার বিরুদ্ধে ৫ টি মামলা করে। সর্বশেষ পাহাড় কাটা অবস্থায় ২২ অক্টোবর রাতে মাটিভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করেছে বন বিভাগ। কিন্তু এরপরও থামছে না পাহাড় কাটা। উল্টো গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ এর পাশাপাশি আরও ২ টি গাড়ি নিয়ে পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছেন। মামলা ঠেকাতে খোদ পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল জব্বার মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা পশ্চিম পাড়ার সুলতান আহমদ প্রকাশ সুলতান মেম্বারের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম এভাবে পাহাড় নিধনযজ্ঞে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, পিএমখালী ছনখোলার সুলতান মেম্বার ও জাহাঙ্গীর মূলত বনের গাছ ও পাহাড়ের মাটির উপর নির্ভরশীল। বনের গাছ ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি তাদের পেশা। যার কারণে এলাকার বনের গাছ ও পাহাড় রক্ষা পাচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বন বিভাগের সাথে সম্পর্ক রেখে চলেন। বন বিভাগ থেকে ‘লাইন’ নিয়ে তারা গাছ ও পাহাড়ের মাটি বিক্রির ব্যবসা করেন। ইতিপূর্বে পাহাড় ও গাছ কাটার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। যার কারণে কিছুদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু গত ৮/৯ মাস ধরে বন বিভাগ থেকে ‘লাইন’ নিয়ে সমানতালে গাছ কাটা ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি চালাচ্ছেন। বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ে থাকা অবৈধ বসতিও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, পাশের পাহাড় থেকে মাটি নিয়ে ঘাটকুল বাজারের পশ্চিমে পাহাড়তলী মসজিদ সংলগ্ন জাহেদ এর নিচু জমি ভরাট করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। তা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল জব্বার হাতেনাতে জব্দ করেন। পরে ওই শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বন বিভাগ থেকে ‘লাইন’ নিয়ে ভরাটের দায়িত্ব নেন জাহাঙ্গীর। ঘটনাটি সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনলে রাতে জাহাঙ্গীরের মাটিভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করে।

এসময় আরও দুটি গাড়ি নিয়ে জাহাঙ্গীর, সুলতান মেম্বারসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। এভাবে সুলতান মেম্বার ও জাহাঙ্গীর নিচু এলাকার জমির প্লট ভরাটে ৩ টি ডাম্প ট্রাক নিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, পাহাড় কাটার ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিলেও খোদ রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল জব্বার তদবির করায় তা ঝুলে আছে। এছাড়া ঘটনাস্থলটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দেখিয়ে পাহাড় কর্তনকারী জাহাঙ্গীরকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। অথচ এটি গেজেট নোটিফিকেশন মূলে বনভূমি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এসব পাহাড়ি জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিছু মাটি নেয়া হয়েছে। আর পাহাড় কাটবেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব অবহেলার কারণে বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও পাহাড় কাটা বেড়েছে। তাদের সাথে অনেক সময় অপরাধীদের গোপন যোগাযোগ থাকে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে অপরাধ কমতে বাধ্য।’ মোটা অংকের টাকা নিয়ে নাম মাত্র জরিমানা দেখিয়ে জব্দকৃত গাড়ি ছেড়ে দেয়ায় পাহাড় কাটার হার বেড়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের পিএমখালী রেঞ্জের দিঘীরঘোনা বন বিটের বন বিট কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’

জানতে চাইলে পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, ‘মামলা হবে কি হবে না তা কর্তৃপক্ষের বিষয়। আসামি হাতেনাতে ধরা না পড়ায় যা করা দরকার কর্তৃপক্ষ তা করবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন