বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পিএমখালী-ছনখোলা সড়কের জুমছড়ি সিকদারঘোনার ফারুকের দোকানের পাশে বনের গাছ ও পাহাড় কেটে পাকাবাড়ি নির্মাণ করছেন মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র মমতাজ। তিনি পাহাড় কেটে জায়গাটি জনৈক ব্যক্তিকে বিক্রি করে ঘর নির্মাণে সহায়তা করছেন। মমতাজের দখলে আছে আরও প্রায় এক একর বনভূমি। জানতে চাইলে মমতাজ দাবি করেন তিনি পাহাড় কাটেননি, তবে জায়গা বিক্রি করেছেন। যিনি জায়গা কিনেছেন তিনিই স্থানীয় বন বিট অফিসের সাথে যোগাযোগ করে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করছেন।’
পিএমখালী-তোতকখালী-খুরুশকুল সড়কের উত্তর পরানিয়াপাড়া পুতুন্নিরমারঢালা এলাকায় আবদুল কাদেরের ঘোনায় গিয়ে দেখা যায় পাহাড় কেটে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন সিএনজি চালক আবু বক্কর। আর পাহাড় কাটার মাটি ডাম্প ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন ওবায়দুল করিম। জানতে চাইলে আবু বক্কর মোবাইল ফোনে জানান, এসব তার জমি নয়। দীর্ঘদিন কেয়ারটেকার থাকায় জমির দখলদার আবদুল কাদের তাকে থাকার জন্য জমিটি দিয়েছেন। আর সেখানে তিনি পাহাড়ের একাংশ কেটে বাড়ি নির্মাণ করছেন। পাহাড় কাটার মাটি নিয়ে যাচ্ছেন পরানিয়াপাড়ার ওবায়দুল করিম। আবদুল কাদের সেখানে আনুমানিক ১০ একরের বনভূমি দখলে নিয়ে খামার করেছেন।
মূল সড়ক দিয়ে কিছু দূর সামনে গেলে তোতকখালী সতেরকাটা এলাকায় বনভূমিতে পাকাবাড়ি নির্মাণ করছেন ছৈয়দ। তিনি বলেন, ‘ছেলে প্রবাসে থাকে। বিদেশ থেকে টাকা দেয়ায় ঘর নির্মাণ করছেন। বন বিভাগ বাধা দেয়ায় এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।’
শুধু এ তিনটিই নয়, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বনভূমিতে গাছ ও পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পিএমখালীর বৃহত্তর জুমছড়ি, সিকদারঘোনা, পরানিয়াপাড়া, ছনখোলা, ঘোনাপাড়া, কাঠালিয়ামুরা, মাছুয়াখালী, তোতকখালী, সিকদারপাড়া, মাঝেরপাড়া, মালিপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি দখল করে শত শত স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক বছরে বনভূমিতে সহস্রাধিক বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে বাধা দেয়া বা উচ্ছেদ করা হয়েছে তেমন উল্লেখযোগ্য নজির নেই। বরং অধিকাংশই স্থানীয় বনকর্মীদের যোগসাজশে করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের আন্তরিকতার ঘাটতি, দায়িত্ব অবহেলা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অপরাধীদের সাথে যোগসাজশে বনভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বন বিভাগের পর্যাপ্ত জনবলের সংকটও রয়েছে। বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগে সংস্কারের পাশাপাশি দায়িত্ব অবহেলার কারণে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, ‘বেশ কিছু মামলা দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।