উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ নকল জাতীয় পরিচয় পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক। করছে ৮ এপিবিএন।
বুধবার (২০ জুলাই) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাম্বাশিয়া ক্যাম্প-১ ডব্লিউ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।আটককৃতদের সবাই রোহিঙ্গা বলে জানান এপিবিএন। ৮ এপিবিএন এর কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান জানান, ক্যাম্পে একটি চক্র রোহিঙ্গাদের জন্য নকল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে যায় এপিবিএন। অভিযানে লাম্বাশিয়া ক্যাম্পের মোঃ আবদুল্লাহর বসতঘর থেকে বিপুল পরিমাণ নকল জাতীয় পরিচয় পত্র, নকল জন্ম নিবন্ধন সনদ, নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স, নকল এনআইডি তৈরীর কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, পেনড্রাইভ, বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি জব্দ করে।
এসময় আটক হন জালিয়াত চক্রের ৫ জন। তারা হলেন, মোঃ আবদুল্লাহ, আবুল খায়ের, মোঃ ইসমাইল, মোঃ ত্বালহা ও মোঃ হারুন।আটককৃতরা সকলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
অভিযানে আআটককৃত আবদুল্লাহর ঘর তল্লাশী করে ০৪ টি ল্যাপটপ, ০৮ টি স্মার্টফোন, ০৪ টি পেনড্রাইভ, ২ টি স্ক্যানারসহ প্রিন্টার, ২৮ টি অনলাইন ডুপ্লিকেট জন্ম নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন, ১১ টি জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই, ৩০ টি ডুপ্লিকেট জন্মসনদ, ২০ টি ডুপ্লিকেট এনআইডি, ২০০ টি বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডির ফটোকপি, ২০ টি ডুপ্লিকেট এনআইডি, ২০০ টি বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডির ফটোকপি, সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের চেক বই ও জমা দেওয়ার বই, ০৫টি সিল, ০১ টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন সনদ পত্র, ২০ টি শাহপুরি বাস্তহারা আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্য ফরম, ৩৫ টি টাকা জমা দেওয়ার পাশ বহিঃ,০৮ টি ০৪ নং রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স, যার প্রত্যেকটিতে মোঃ আবদুল্লাহ নামে লিপিবদ্ধ, ০৪নং রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের জাতীয়তা সনদ সহ আরো বিভিন্ন নামের ০৪টি জাতীয়তা সনদ, ০৪ নং রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিহীন সনদ-০৫ টি, আবদুল্লাহ নামের ইলেক্ট্রিক বিলের কাগজ পত্র, বিভিন্ন ধরণের জায়গা জমির দলিল ও খতিয়ান, মোঃ ইসমাইলের জন্ম সনদ ও আইডি কার্ড, মোঃ ত্বালহা এর সিটি কর্পোরেশনের জাতীয় সনদ, জন্ম সনদ এনআইডি (নকল) ও মোঃ হারুন এর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি জব্দ করা হয়।
এপিবিএন জানান, প্রাথমিক জিগ্গাসাবাদে, উক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে নকল বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে বলে স্বীকার করেন। সাধারণ রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং বিদেশে গমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরির লক্ষ্যে উক্ত দালাল চক্রকে মোটা অংকের টাকা প্রদান করে বলেও জানান এপিবিএন।