বার্তা পরিবেশক:
দীর্ঘ ক্ষোভ আর হতাশায় আত্ম হত্যার হুমকি দিলেন কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষক ঐন্দ্রিলা। সহপাঠীদের গ্রপ মেসেজে তিনি লিখেছেন – আমি যখন একা রাস্তায় হাঁটি বা চলি তখন আমার মন থেকে শুধু দীর্ঘশ্বাস বেরোয়। সিনিয়ররা গাড়ি নিয়ে কলেজে আসেন। তাদের বাড়ি, গাড়ি সব আছে। আমার কিছু নাই। চাকরিই টা আমার একমাত্র অবলম্বন। রাত দশটা পর্যন্ত টিউশনি করে কোনমতে চলি। কলজের টাকা গুলো ভারী হয়ে যাচ্ছেনা। এত টাকার ভার সওয়া কি অত সহজ! হয়তো প্রকৃতি বলে কিছু নাই। ” তবে সত্যি, আমি যদি উল্টা পাল্টা কিছু করে বসি…. একটা চিরকুট ঠিকই লিখে যাব…. ” আমার মৃত্যুর জন্য কেবল আমি দায়ী “। তার এই স্টাটাসে সহকর্মীরা চরম মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ। সহ কর্মীদের বিক্ষোভের কথা জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে আগামী ১ জুন শিক্ষক পরিষদের জরুরি মিটিং ঢাকা হয়ে কলেজের হল রুমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭/১৮ মাস ধরে কলেজ থেকে তারা বেতন পাননা। আমরা নন এমপিও শিক্ষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছি। কলেজের বেতন চাইতে গেলে অধ্যক্ষ চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এক প্রকার কলেজ প্রশাসনের কাছে শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে আছে। কোন প্রকার অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা কারো নেই। কলেজ প্রশাসন, গর্ভর্ণিং বড়ির একচ্ছত্র প্রভাব অধ্যক্ষের।
অধ্যক্ষের স্ত্রী সাবেক সাংসদ এথিন রাখাইন দীর্ঘ ১৫/২০ বছর ধরে কলেজের গভর্নিং বড়ির সভাপতি। ফলে একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে কলেজ অধ্যক্ষ ও উপাধক্ষ্য সহ একটি সিন্ডিকেট কলেজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। গভর্ণিং বড়ি তাদের হাতের মুটোয়। তাই নামে বেনামে বিল করে বিভিন্ন ভাতার নামে ২ কোটির ও অধিক টাকা লোটপাট করে আসছে অধ্যক্ষ- উপাধক্ষ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে উল্টো হেনেস্তা করা হয়। তাই চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দু শতাধিকের অধিক নন এমপিও শিক্ষক কলেজে চাকরিরত। খোজ নিয়ে আরো জানা গেছে- শিক্ষক দের মধ্যে বিভিন্ন দল- উপদলে বিভকৃত রেখেছেন কলেজ অধ্যক্ষ। কেউ প্রতিবাদ করলে অপর গ্রুপকে লেলিয়ে দেয়া হয়। এ দিকে সিনিয়র শিক্ষককরা তাদের বিভাগীয় প্রধান পদ সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পায় বলে তারা এ নিয়ে কোন উচ্চ বাচ্চ করেনা, করলে তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে বলে তারা নীরব থাকে।
এদিকে আরো জানা গেছে, সারা বছর ধরে কলেজে নামে বেনামে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে কলেজের ফান্ড নয় ছয় হচ্ছে। যার কারনে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষকদের বেতনের টাকা বকেয়া থাকছে। একটি সিন্ডিকেটের কাছে কলেজের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক / কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছে। চাকরি হারাবার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ-উপাধক্ষ সিন্ডিকেট কলেজে উন্নয়নে ৮ কোটি টাকা থেকে ও ব্যাপক লুটপাট করছে। গভর্নিং বড়ি কে পাশ কাটিয়ে উক্ত সিন্ডিকেট নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে নিম্নমানের কাজ করছে যা তদন্ত করলে বেরিয় আসবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা বলেন ভাই আমার চাকরি চলে যাবে। দয়া করে আমার নাম কাউকে প্রকাশ করিয়েন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজে ৫০/ ৫২ টি এসি ক্লাস রুমসহ বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে। এসি লাগানোর মত ফিজিবিলিটি না থাকা সত্তেও এসব এসি সংযোগ ছাড়া অকেজো পড়ে আছে। শিক্ষকরা আসা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিক তদন্ত করে আসো হস্তক্ষেপ না করলে এ কলেজ আরো ধ্বংসের দারপ্রান্তে উপনীত হবে।