• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

কক্সবাজার পিএমখালীর ‘অঘোষিত ওসি’ মাহামুদুল করিম!

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৩৪ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২
মোরশেদ বলি হত্যা মামলার অন্যতম আসামী মাহামুদুল করিম ওরফে ওসি করিম।

বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের দূরত্ব পিএমখালী ইউনিয়ন। আয়তনে ২৭ বর্গকিলোমিটারের ইউনিয়নে আলী গ্রুপ ও গ্রীণ সোসাইটিসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। এসব বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশেই যেন চলে এলাকাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম। কোনো কোনো সময় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরাও তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। এসব সন্ত্রাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, লুটপাট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ নানা অপকর্ম যেন একরকম স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করেন পিএমখালীর বাসিন্দা মাহামুদুল করিম। মাহামুদুল করিম পিএমখালী ইউনিয়নের অঘোষিত ওসি হিসেবে বেশ পরিচিত। ওই ইউনিয়নের ৯০ ভাগ বিচার-সমাধান তার হাত ধরেই হয়। থানায় কেউ অভিযোগ বা মামলা করলে সেটারও সমাধান দেন তিনি। তার কথার বাইরে কেউ অভিযোগও করতে পারে না। সদর থানার সাথে তার যোগাযোগ বহু বছর আগে থেকে। যার কারণে পিএমখালীর ওসি হিসেবে তার বেশ খ্যাতি রয়েছে এলাকায়। সেই অঘোষিত ওসি এখন পলাতক। মোরশেদ বলী হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী মাহামুদুল করিম। পিএমখালী গোলারপাড়া গ্রামের দরিদ্র নৌকার মাঝি ইলিয়াস প্রকাশ ওরফে কালু মাঝির ছেলে করিম।

মোরশেদ হত্যাকান্ডের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরালের ঘটনার পর মামলা হলে ওইসব সন্ত্রাসী গা-ঢাকা দেয়ায় আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন গ্রামবাসী। এদিকে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যুবকদের একটি অংশ নিজেরাই বাহিনী গড়ে তুলছে। তাদের উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নেয়া। পাশাপাশি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক বাহিনী ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে আরেক বাহিনীর। এভাবেই দিনে দিনে গড়ে উঠেছে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী।

অভিযোগ উঠেছে- গত বৃহস্পতিবার বিকালে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে মোরশেদ বলিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যার আগে মামলা থেকে রেহাই পেতে থানা পুলিশের সাথে খুনিরা বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময় কন্ট্রাক্ট করেছিল। এমটাই দাবি করেছে মোরশেদ আলির পরিবার। যদিও কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত সেলিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত শনিবার সদর থানায় চাঞ্চল্যকর মোরশেদ বলি হত্যাকান্ডের মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই জাহেদ আলী। মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ ও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মোরশেদ বলি পিএমখালী মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মাস্টার ওমর আলির ছেলে।

এদিকে মোরশেদকে হত্যার ওপরের নির্দেশ দাতা হিসেবে আলোচনায় এসেছেন দেশব্যাপী আলোচিত কক্সবাজারের ছৈয়দ মোহাম্মদ আলি ওরফে পাওয়ার আলি বা আলি ভাই এর নামও।

আলোচিত এ মামলার ১নং সাক্ষী বাংলাবাজারের বাসিন্দা আলি আহমেদ কোম্পনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা কন্ট্রাক্ট করে মোরশেদ আলিকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত ওসি সেলিমের হাতে পাওয়ার আলির ভাই মাহামুদুল করিম ওরফে ওসি করিম ঘটনার আগে একটি কাজী অফিসে দুই দফায় এ অর্থ তুলে দিয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে প্রাণে না মারার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, মোরশেদ আলিকে হত্যার জন্য যে ওপরের নির্দেশের কথা বলা হচ্ছে তিনি হলেন পাওয়ার আলি। পিএমখালীর এবং কক্সবাজারের সবাই জানেন মোরশেদ হত্যায় জড়িত সবাই দখলবাজ, ভূমিদস্যুর একটি সঙ্ঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। আর তাদের মূল শক্তি ও গডফাদার হলেন পাওয়ার আলি। তার নির্দেশ ছাড়া পিএমখালীর গাছের পাতাও নড়ে না। আর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন তার ভাই মাহামুদুল করিম ওরফে ওসি করিম।

আরো দাবি করেন, ঘটনার পর পুলিশ ও র‌্যাব উপস্থিত হয়ে যে তিনজনকে আটক করে তাদের মাঝে পাওয়ার আলির ভাই দিদারকেও আটক করা হয়। তার দোকান থেকে মোরশেদকে হত্যার জন্য রাখা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় সিসিটিভি ফুটেজ। এরপরও উপস্থিত পুলিশের একজন অফিসারকে আলির ভাই আটককৃত দিদারকে ছেড়ে দিতে বার বার ফোন করেন তদন্ত ওসি সেলিম উদ্দিন। কিন্তু পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কারণে তিনি তা হতে দেননি। হত্যা মামলায় পাওয়ার আলি দুই ভাই মাহামুদুল করিম ওরফে ওসি করিম ও দিদারুল আলমকে আসামি করা হয়েছে।

একই কথা বলেন নিহত মোরশেদের চাচাতো ভাই আবুল কালাম। তিনি বলেন, আমার ভাই মোরশেদকে হত্যার আগে পাওয়ার আলির ভাই যিনি কক্সবাজার সদর থানা কন্ট্রোল করেন; সেই মাহামুদুল করিমের সাথে খুনিদের বৈঠক হয়। মোরশেদকে হত্যার সময় থানা পুলিশ সামাল দেওয়ার জন্য মাহামুদুল হক থানায় বসে থাকবেন, বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আমরা যেন তা বুঝতে না পারি সে জন্য ওসি করিম আমার এক ভাইয়ের সাথে ঘটনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ রাখেন। যখন জেনেছেন মোরশেদ মারাগেছে এ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

এবিষয়ে ছৈয়দ মোহাম্মদ আলি ওরফে পাওয়ার আলি বলেন, সবাই জানে আমার ভাই মাহামুদুল করিম থানায় দালালি করে, সে আমার কথা শুনে না। এ কারণে গত দুই বছর ধরে তার সাথে আমার সুসম্পর্ক নাই। মামলায় আমার দুই ভাই আসামি হয়েছে। আমি তাদের দায়ভার নেবো না, এমনকি আমার সন্তানেরও দায়ভার নেবো না। আর পিএমখালীতে যা হয় তার দায় আমার ভাইয়েরা; যারা জড়িত তাদের। আমি কাউকে শেল্টার দিই না।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের লীগের আহ্বায়ক মাহামুদুল করিম মাদু নিহত মোরশেদের জানাযার সময় খুনিদের আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার করার কথা জানালেও উল্টো পিএমখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা আলাল ও পাওয়ার আলির ভাইদের মামলা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে মাহামুদুল করিম মাদু বলেন, তারা মামলায় পাওয়ার আলির ভাই নিরহ মাহামুদুল করিম (ওসি করিম) সহ আরো কয়েকজনকে আসামি করেছে। যা অন্যায় হয়েছে। নিরহ কাউকে আসামি না করলেও পারতেন।

এদিকে মোরশেদ হত্যাকান্ডের আগে দুই দফায় ঘুষ লেনদেন এবং থানা কন্ট্রাক্ট এর বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার ওসি তদন্ত সেলিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি অসত্য বানোয়াট অভিযোগ।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমি মামলার সাক্ষী দিতে কক্সবাজারের বাইরে চলে এসছি। তারা হয়তো অভিযোগ করতে পারে; আপনারা সাংবাদিকরা এই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে থানায় পাওয়ার আলির কোন প্রভাব দেখতে পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো তার ভাই মাহামুদুল করিম (ওসি করিম) কোনো কারণে থানায় আসেন। কারণ থাকলে সবাই যেমন ওসি স্যারের কাছে আমার কাছে আসেন। এর বাইরে তার সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নাই।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনীরুল গিয়াস বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলা উচিত হবে না, তবে পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। সদর থানায় দালালদের প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেছে আরো অনেক আগেই। হয়তো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সহজ তাই অনেকে অভিযোগ করেন। আমার বিরুদ্ধে তো ১০ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ করেছিল একটি পক্ষ।
তিনি বলেন, এখন আমাদের কাজ হচ্ছে খুনের সাথে জড়িতদের ধরে আইনের আওতায় আনা।

আরও পড়ুন:

কক্সবাজারে ‘ওপরের নির্দেশে’ মোরশেদকে হত্যা : নেতৃত্বে আ.লীগ নেতারা!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন