• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

একবছরে কক্সবাজার ও শেরপুরে মানুষের হামলায় ৩৪ হাতির মৃত্যু : ১১ দফা সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিদেক / ১৭৬ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
গত এক বছরে প্রায় ৩৪টি হাতি মানুষের হামলার শিকার হয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে ৩৩টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বিত ফোরাম ‘বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট (বিএনসিএ)’। ছায়া তদন্তের পর এ তথ্য জানিয়ে সরকারের কাছে ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে সমন্বিত ফোরাম।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই সুপারিশ তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।

গত ২৮ নভেম্বর বন ভবনের সামনে হাতি হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের গঠিত তদন্তদল (বিএনসিএ)।

ওই সময় বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জোট নেতাদের আলোচনায় বন, বনভূমি ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উঠে আসে। এরপর ২ ডিসেম্বর জোটের আহ্বায়ক কমিটির সভায় হাতি হত্যার বিষয়ে ছায়া তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুসারে কক্সবাজারের রামু এবং শেরপুরের শ্রীবর্দীতে হাতি হত্যার ঘটনার ছায়া তদন্ত হয়।

কক্সবাজারের তদন্তের কথা উল্লেখ করে তদন্তদল জানায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া ও ধোয়াপালং রেঞ্জের ১৩ হাজার ৬৫ একর বনভূমির মধ্যে অর্ধেকের বেশি অবৈধ দখলে চলে গেছে। যদিও বন বিভাগ বনভূমি বেদখলের পরিমাণ ১২০২ একর বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া চারপাশে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বনভূমির ওপর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে হাতি চলাচলের পথ (করিডর) ও আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে। ফলে আনুমানিক ১০০ একর জায়গায় প্রায় ৪০টি মতো হাতি আটকা পড়েছে।

তদন্তদল আরো জানায়, বনভূমিতে অবৈধ বসতবাড়ি, পানের বরজ, বিভিন্ন ক্ষেতখামার, ঘের, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর জন্য চরম হুমকি তৈরি করেছে। সেখানেও হাতির নিরাপদ আবাস, খাদ্য ও পানির সংকট তীব্র হওয়ায় এসব হাতি একপ্রকার উপায়হীন হয়ে মানুষের বসতবাড়ি ও ক্ষেতখামারে প্রায় প্রতিদিন হানা দিচ্ছে। এতে উক্ত এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে হাতি হত্যার মতো ঘটনায় জড়িয়ে যাচ্ছে।

এর আগে ২০২১ সালের ৩১ আগস্টে ধোয়াপালং রেঞ্জের খুনিয়াপালং বন বিট এলাকায় একটি হাতিকে বিদ্যুতায়িত করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে হাতি হত্যার ঘটনা অকপটে স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা করে বন বিভাগ।

তদন্তদল আরো জানায়, ধোয়াপালং ও পানেরছড়া রেঞ্জের ১৩ হাজার ৬৫ একর বনভূমি সুরক্ষা, নিয়মিত টহল, বনায়ন সৃজন, অফিশিয়াল দৈনন্দিন কার্য সম্পাদনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় রয়েছে মাত্র ১৬ জন। অপর্যাপ্ত হওয়ায় হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী সুরক্ষায় সক্ষমতার ব্যাপক ঘাটতি হয় সরকারি এ দপ্তরটির। এ ছাড়া এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্যদের কোনো সম্মানির ব্যবস্থা না থাকায় তাদেরও সঠিক সময়ে সাড়া পাওয়া যায় না।

এর আগে ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর  ধোয়াপালং রেঞ্জের পাশের পানেরছড়া রেঞ্জের তুলাবাগান বন বিট এলাকায় একটি হাতিকে বিদ্যুতায়িত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করে বন বিভাগ। কিন্তু তদন্ত করে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় মামলার বাদী সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা এক আসামির সঙ্গে যোগসাজশে অভিযোগপত্র থেকে এক আসামিকে বাদ দেওয়ার সুযোগ তৈরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছে কক্সবাজার সচেতন নাগরিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠন।

দুটি ঘটনাতেই বনভূমিতে অবৈধ বসতবাড়ি, পানের বরজ, ক্ষেতখামার ও বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বনভূমি ধ্বংসের চিত্র ফুটে ওঠে। এমনকি হাতি হত্যার মতো ঘটনার পরও সেসব বিদ্যমান রয়েছে। এ ছাড়া জনবলসহ লজিস্টিক সাপোর্টের সংকটে বন বিভাগের সক্ষমতার অভাব বিদ্যমান। অন্যদিকে মামলা দায়েরের পর মামলা পরিচালনায় আন্তরিকতা ও দক্ষতার ঘাটতি এবং অনিয়মের অভিযোগ পরিলক্ষিত হয়।

আইনি দুর্বলতার অভিযোগ তুলে তদন্তদল জানায়, ধোয়াপালংয়ের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল বন বিভাগ। পরে  তিনজন আদালতে জামিন চাইলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।   মাত্র ১৬ দিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ওই আসামিরা। আরো চারজন আসামি জেল না খেটেই আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত চারজন আসামি পলাতক রয়েছেন।

জোটের সুপারিশে বলা হয়েছে— বন, বনভূমি এবং বন্য প্রাণীর সুরক্ষা দিতে সুস্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছে বন বিভাগ। এই ব্যর্থতার কারণ যাচাইয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে; বিচারের আওতায় না আসা হাতি হত্যার ঘটনাগুলো সিআইডি বা পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে; বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরাতে হবে; জাতীয় কমিশন গঠন করে সরকারের সব বিভাগকে বন-বন্য প্রাণী রক্ষায় যুক্ত করতে হবে; বাণিজ্য ছেড়ে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা বন বিভাগের মূল ম্যান্ডেট নির্ধারণ করতে হবে; প্রকল্প দিয়ে নয়, বন্য প্রাণী রক্ষায় বন বিভাগকে নিয়মিত বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে; বন্য প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতার যথেষ্ট সংকট রয়েছে। গণমাধ্যমকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

এ ছাড়াও সংরক্ষিত বন ও হাতির করিডরের ভেতর বিদ্যুৎ লাইন, সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে বরাদ্দ বন্ধ করতে হবে; হাতি হত্যার আসামিদের জামিন বন্ধ করে ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে; বন বিভাগে দ্রুত পর্যাপ্ত জনবলসহ সব প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত করতে হবে। এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমকে বেতনভুক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সংরক্ষিত বনকে আর কোনো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির জন্য বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কক্সবাজারে ছায়া তদন্ত দলে ছিলেন সেভ আওয়ার সি-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, প্রাণ-প্রকৃতি সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল এবং এনভায়রনমেন্ট পিপল-এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ। অন্যদিকে জোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক, পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের নেতৃত্বে শেরপুরের ছায়া তদন্ত দলে ছিলেন সেভ আওয়ার সির মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, প্রাণ-প্রকৃতি সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল, গ্রিন ফাইটিং মুভমেন্টের সভাপতি নাবিল আহমদ, সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পী সরদার ও অর্থ পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন এবং শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন