বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার খুরুশকুলের পাহাড় কেটে পুকুর ভরাটের স্থানে অভিযান চালিয়েছে কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নু এমং মারমা মং। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে এই অভিযান চালানো হয়। তিনি সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শয়ন দে নামের একজনকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
অপরদিকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ডিএফও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এটি নিশ্চিত করেছেন।

খুরুশকুলে পাহাড় কাটার দৃশ্য।
উল্লেখ্য যে, সোমবার (৩ জানুয়ারি) ভয়েস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমে ‘খুরুশকুলে পাহাড় কেটে শতবর্ষী পুকুর ভরাট’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদে বলা হয়েছে-প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটি বিশাল পাহাড় কেটে ডাম্প ট্রাকে মাটি নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে শতবর্ষী একটি পুকুর। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের উত্তর হিন্দু পাড়ায় পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। জয় বর্ধন নামের একজন সাবেক ইউপি সদস্য,কক্সবাজার ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর দেবাশীষ দে বাবু, নাছির উদ্দীন রুনো, জিয়াবুল, মামুন ও কায়সার এর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি সিন্ডিকেট ৪০ শতক আয়তনের শতবর্ষী পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, পালপাড়া বাজারের (পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে) পূর্ব পাশের সড়কে বড় আকারের ২০ টি মতো গাছ কেটে নিয়ে পুকুরের চারপাশে দেয়া হয়েছে সীমানা প্রাচীর। এরপর পুকুরে ৫/৬ টি ডাম্প ট্রাকে করে মাটি এনে ফেলা হচ্ছে। মাটি আনা হচ্ছে পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটি বিশাল পাহাড় কেটে।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড় কেটে পুকুর ভরাটের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে।’ তিনি বলেন, ‘একদিকে কেটে নেয়া হচ্ছে পাহাড় অন্যদিকে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর। দুটিই দন্ডনীয় অপরাধ।’ দ্রুত পাহাড় কাটা বন্ধ করে পুকুরটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: