ঈদগাঁও প্রতিনিধি
ঔষধি গুণসমৃদ্ধ ব্ল্যাক রাইস চাষ করে সফল হয়েছেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ফয়সাল কবির নামে এক যুবক। অধিক ঔষধি গুণাগুন ও বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে এ ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি প্রধান বাংলাদেশে ইতোমধ্যে অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ হচ্ছে। এবার যোগ হয়েছে ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান।
তার চাষের সফলতা দেখে বোরো মৌসুমে সাধারণ ধান চাষের পাশাপাশি ব্ল্যাক রাইস চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে অনেকে। ব্ল্যাক রাইস ধানগাছের উচ্চতা, পাতা, শীষ, ধান ও চাল সাধারণ ধানের মতোই তবে এর সবকিছুই কালো।
ফয়সাল কবির জানান, ইউটিউব থেকে দেখে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ভিয়েতনাম থেকে এক কেজি ব্ল্যাক রাইসের বীজ এনে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাড়ির পিছনে ১০ শতক জমিতে চাষ করেন। এর ফলন ভালো হলেও অন্য ধানের চেয়ে উৎপাদন একটু কম হবে কিন্তু অধিক মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
দশ শতক জমি থেকে ৫ মন ধান পাওয়ার আশা করছেন বলে জানান ফয়সাল কবির।
ইতিমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা ফয়সাল থেকে ব্ল্যাক রাইস ধানের বীজ সংগ্রহে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন মানুষ তার ধানের জমি দেখতে আসেন এবং অনেকেই চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কৃষিবিদরা জানান, এ ধানের চালের ভাতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুব উপকারী। মানবদেহের বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও ব্ল্যাক রাইস চালের ভাত সহায়ক ভূমিকা পালন করে ।
কক্সবাজার কৃষি অফিসার জাহিদ হাসান জানান, কক্সবাজারে সর্বপ্রথম ঈদগাঁওতে এ ধানের চাষ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ যা যা করণীয় কৃষি বিভাগ থেকে সব সহযোগিতা করা হবে। সাধারণ ধানের চেয়ে ব্ল্যাক রাইসের দাম অধিক। এ ধানের চালের ভাত ঔষধি গুণসম্পন্ন হওয়ায় একদিকে যেমন ক্ষুধা নিবারণ করে, অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধও করে থাকে।
জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ায় ব্ল্যাক রাইস ধানের উপত্তি হলেও অধিক ঔষধি গুণাগুনের কারণে চীনের রাজা-বাদশাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য গোপনে এই ব্ল্যাক রাইস চাষ করা হতো। যা প্রজাদের জন্য চাষ করা বা খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এ কারণে এই ধানকে নিষিদ্ধ ধানও বলা হতো। পরবর্তীতে জাপান, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া এই ধান চাষ শুরু হয়। সেখান থেকে এই ধান আসে বাংলাদেশে। পার্বত্য এলাকায় এ চালকে বলা হয় পোড়া বিন্নি চাল।
এক গবেষণায় দেখা যায়, ব্ল্যাক রাইসে পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে রয়েছে আধা কাপ সিদ্ধ ব্ল্যাক রাইসে ক্যালরি ১৬০ গ্রাম, চর্বি ১ দশমিক ৫ গ্রাম, ফাইবার ২ গ্রাম, প্রোটিন ৫ গ্রাম। এ ছাড়াও আয়রন শতকরা ৬ ভাগ ও ভিটামিন রয়েছে শতকরা ২ ভাগ এবং কার্বোহাইড্রেট কম থাকায় ডায়াবেটিক রোগীরা খেতে পারেন।