• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

৫২ রোহিঙ্গাকে বিক্রি করে ফিরছিল চক্রটি

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৯৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক:
মালয়েশিয়া পাচারের কথা বলে ৫২ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে বিক্রি করে ফেরার পথে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) ভোরে কক্সবাজার উপক‚লের নাজিরারটেক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র-গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সকলেই  আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। পাচার হওয়াদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী ৮ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহেশখালীর উপজেলার ছোট মহেশখালীর সিপাহির পাড়ার গোলাম কুদ্দুসের ছেলে শাহ জাহান (৩৭), ঘটিভাঙা পূর্বপাড়ার নুর মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ পারভেজ (২৩), একই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে আবদুল মাজেদ (২৭), ফজল করিমের ছেলে আমির মো. ফয়সাল (২৪), আমির হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ শাকের ( ৩০) ও মো. মীর কাসেমের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫)।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে-একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, দুইটি থ্রিকোয়াটারগান, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুইটি রামদা, একটি স্যাটেলাইট ফোন, একটি কম্পাস, একটি জিপিএস ডিভাইস, ১৬ টি মোবাইল ফোন, ১০ টি সিম কার্ড ও পাচারে ব্যবহৃত একটি ফিশিং ট্রলার জব্দ করা হয়।

শনিবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ জানান, “আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের কিছু সদস্য নাজিরারটেক চ্যানেলে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে অভিযানে যায় র‌্যাব। এসময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে অস্ত্র-গুলিসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, এ চক্রের বিদেশী সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার হয়। পাশাপাশি জিপিএসের মাধ্যমে সাগরের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে মানব পাচার করে আসছিল তারা।”

তিনি আরও জানান, “স্থানীয় ও বোহিঙ্গাদের উচ্চ বেতনে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করানোর প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য তাদের রাজি করে তারা। এ জন্য তাদের জনপ্রতি তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে।”

“প্রাথমিকভাবে তাদের থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা গ্রহণ করে। বাকী টাকা তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করবে মর্মে চুক্তি করে।”

মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ জানান,”চুক্তি অনুযারী রোহিঙ্গাদের মানব পাচারকারীদের প্ররোচনায় অন্য দেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা করে। তাদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে দেয়। নারীদের পতিতালয়ে কাজ করতে বাধ্য করে।”

তিনি আরও জানান, “পাচার করা বাবদ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের চুক্তির বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ চক্রের আরও সদস্যদের চিহ্নিত করতে পেরেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন