• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

সভাপতি সেক্রেটারি হতে কক্সবাজারে আ.লীগ নেতাদের স্নায়ুযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৫২ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার জেলা আ’লীগের কমিটি হয়নি। দলের নেতাকর্মীরা চাচ্ছে কমিটি ও নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু কমিটির উপর কর্তৃত্ব বজায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছে ¯œায়ুযুদ্ধ। দলীয় পদবি পেতে মূলত চলছে এ যুদ্ধ।

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি। সম্মেলনের ৬ বছর ১০ মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সভাপতির পদটিতে রদবদল হয়ে ভারপ্রাপ্ত হলেও আর হয়নি সম্মেলন ও নতুন কমিটি। আর এর মধ্যে বুধবার (৭ ডিসেম্বর) কক্সবাজার সফরে আসছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার এসেছিলেন ২০১৭ সালের ৬ মে।

টানা সাড়ে ৫ বছরের বেশি সময় পর এবারের কক্সবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জনসভায় সবচেয়ে বেশি জনসমাগমসহ নানা প্রস্তুুতি নিলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের ¯œায়ুযুদ্ধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেড়ে গেছে জনসভাস্থলের আশপাশসহ কক্সবাজার শহর। আর ওইখানে অনেকেই নিজকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে হয়েছে স্বাগত মিছিলও। একই সঙ্গে কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হিসেবে চালাচ্ছেন প্রচারণা। এর মধ্যে একে অপরের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তর সংগঠন। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা চিরদিন আছে এবং থাকবে। ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার আগমন ও ১৩ ডিসেম্বর জেলা সম্মেলন। ফলে স্বাভাবিকভাবে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে।

ইতোমধ্যে দেখা গেছে, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল আলম নিজকে ভারমুক্ত সভাপতি হওয়ার চেষ্টায় আছেন। সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানও সভাপতি হতে আগ্রহী, তবে তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রেখে দিলেও নারাজ নন। সাংগঠনিক কোনো কর্মকান্ডে খুব বেশি সক্রিয় না হলেও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সভাপতি প্রার্থী ও চকরিয়া পেকুয়া আসনের প্রার্থী হিসেবে ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ জোর তৎপর। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশেক উল্লাহ রফিকের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আর রেজাউল করিম নিজকেও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ জানান, তিনি জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্যসহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে ২ বছর ধরে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী আসবেন আজ বুধবার (৭ ডিসেম্বর)। আর ৫ দিন পর সম্মেলন। তৎপরতা বাড়ানো স্বাভাবিক।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর ৭ ডিসেম্বর জনসভা সফলভাবে শেষ করাই জরুরি বিষয়। ১৩ ডিসেম্বর সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী যাকে দায়িত্ব দেবেন তিনি সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হবেন। তিনি নিজেকে কোন পদের প্রার্থী হিসেবে থাকবেন না। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে জানান তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার জেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাড়ে আট মাস পর ১৩ অক্টোবর ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি অনুমোদন দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ওই সম্মেলনের মধ্যদিয়ে মনোনীত সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রায় ৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে ওই কমিটিতে আসে নাটকীয় পরিবর্তন। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর জেলা কমিটির সভাপতি সিরাজুল মোস্তফাকে কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক করেন। সিরাজুল মোস্তফার স্থলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় অনুমোদিত জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতির তালিকায় থাকা ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন