বিশেষ প্রতিবেদক
অনেক নেতা ও কিছু অসাধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে গভীর সখত্য নিয়ে গড়ে উঠা কক্সবাজার শহরের চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী দিলরুবা বেগম মিনুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভয়েসওয়ার্ল্ডে তথ্যবহুল বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা বেড়ে যায়। ওই সংবাদে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে মিনুর। তার ফেন্সিডিলের বিশাল সাম্রাজ্য রক্ষায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে সে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে উঠে সে আলোচিত মাদক নারী মিনু।
নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, মিনুর ফেন্সিডিল ব্যবসার আদৌপান্ত সংবাদে উঠে আসায় দুশ্চিন্তা ভর করে তাকে। বাড়িতে কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুধু খুচরা বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে কিছু ফেন্সিডিল। তাও বেশ গোপনে। তার ফেন্সিডিল ডেলিভারির কাজে নিয়োজিতদের কাছ থেকে আপাতত মোটর সাইকেল নিয়ে নেয়া হয়। বন্ধ করা হয়েছে হোম ডেলিভারি। বিকাশে মাদকের টাকা লেনদেন করা সেই দোকানির সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ম্যানেজ করা হয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসীদের। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতেও সে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. শাহজাহান কবির বলেন, ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী মিনুসহ তার সহযোগীরা নজরদারিতে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এবিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসা করে কেউ রেহায় পাবে না। আজ না হয় কাল অপরাধীরা আটক হবেই। মিনুসহ যারা আছে সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা যায়, তালিকাভুক্ত চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী দিলরুবা বেগম মিনু মাদক জগতে একনামে পরিচিত। পর্যটন শহর কক্সবাজারে তিনি গড়ে তুলেছেন ফেন্সিডিলের স্বর্গরাজ্য। এ রাজ্যের তিনি একাই রাণী। কেউ তাকে দমাতে পারেনি। তার অবৈধ টাকার কাছে ধরাশয়ী প্রত্যেকে। শহরের ভিআইপি ফেন্সিডিল সেবনকারীদের শেল্টারে রমরমা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। ব্যবসা চালাতে বাসার সামনে বসিয়েছে সিসি ক্যামরাও। সিসি ক্যামরা লাগিয়ে ফেন্সিডিল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মিনু।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য মিনু ও তার স্বামী অপুর রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের অধিকাংশই মিনুর পরিবারের সদস্য। এরমধ্যে মিনুর বোন ইয়াছমিন আক্তার, রওশন আরা, ভাই আবদুল জলিল ও তারেকসহ একাধিক ব্যক্তি।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরের মাদক সম্রাটদের সাথে তাদের রয়েছে গভীর সখ্যতা। বিশেষ করে কুমিল্লা ও যশোর থেকেই নৌ-পথে আসে ফেন্সিডিলের চালান। বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন তীর থেকে খালাস হয় ওইসব চালান। তবে বেশিরভাগ চালান আসে খুরুশকুল ব্রীজ ও টেকপাড়ার বাঁকখালী পাড়ের বিভিন্ন বরফকলের জেটি থেকে। নিরপাদে ব্যবসা ও চালান আসার জন্য মিনু টাকা দিয়ে লালন করেন স্থানীয় সন্ত্রাসীদের। মিনুর আলিশান ওই বাড়িতেই রয়েছে ফেন্সিডিল রাখার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। আন্ডারগ্রাউন্ডে বিশেষ কৌশলে রাখা হয় ফেন্সিডিল। ফেন্সিডিল রাখার জন্য বাড়ি করার সময় তৈরি করা হয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ডে একাধিক গোপন কক্ষ।
বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিনুর আস্তানায় অভিযান চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে মিনুর স্বামী অপু ও ভাই জলিল র্যাবের হাতে আটক হয়ে কারাগারে আছেন। মিনু ও তার স্বামী অপুুর বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এসব মামলাও মিনুকে দমাতে পারেনি। তিনি কয়েকবার আটক হলেও জামিনে বের হয়ে ফের ফেন্সিডিল ব্যবসার জগতে চলে যায়।
মিনু তার মাদকের রাজ্য জিয়ে রাখতে প্রশাসনের অসাধু কর্তা, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় প্রভাবশালী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। তাদের প্রতিমাসে দেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। যার জন্য দিন দিন বাড়ছে তার মাদকের সম্রাজ্ঞী।
স্থানীয়রা জানান, মিনুর নিয়মিত ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে অনেক ভিভিআইপি ও ভিআইপি ব্যক্তি। সেই তালিকায় অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা। ভিভিআইপি ও ভিআইপি ক্রেতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তাদের কাছে পৌছে যায় ফেন্সিডিল। এ জন্য একাধিক ডেলিভারি বয়ও রেখেছেন মিনু। তাদের মধ্যে সোহেল, আশিক, ইউনুছ অন্যতম। ডেলিভারি দেয়ার পর টাকা পরিশোধ করা হয় বিকাশে।
ফেন্সিডিল সম্রাজ্ঞী মিনুর ফেন্সিডিলের অধিকাংশ টাকা লেনদেন তারাবনিয়া প্রধান সড়কের পাশে সিকদার বাড়ির সামনের ‘আর্থ টেলিকম’ নামে বিকাশের দোকানে। ওই দোকানের মালিক মোহাম্মদ রনি। প্রতিদিন লাখ লাখ লেনদেন করে একাধিক বিকাশ নাম্বার থেকে।
ফেন্সিডিলের টাকা লেনদেন করেই কোটিপতি রনি। আর্থ টেলিকম ছাড়াও রনি এখন আরও কয়েকটি দোকানের মালিক। বার্মিজ মার্কেটে সুপারশপ, বাজারে দোকানসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।