• রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

বরখাস্তের পরও চেয়ারম্যান পদে ফিরতে পেকুয়ায় আ.লীগ নেতা ডাকাত ইউনুসের কোটি টাকার মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩৭৬ বার ভিউ
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ফিরতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ইউনুস। আদালত, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সমন্বয়ক, কয়েকজন বিএনপি নেতা ও জেলা প্রশাসনে ইতিমধ্যেই লাখ লাখ টাকা ছিটিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচার রয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই চেয়ারম্যান পদে এই আওয়ামী লীগ নেতাকে ফিরিয়ে আনতে একটি চক্র দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফ্যাসিস্ট হঠানোর আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের উপদেষ্টা কক্সবাজার সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নুরুল আবছার সিকদার। তিনি বলেন, “শুধু কক্সবাজার ও ইউনুস নয়, বাংলাদেশে কোথাও আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিস্টদের আবারও চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনা উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের অতি সতর্ক থাকা উচিত। মগনামার ইউনুস একজন শুধু আওয়ামী লীগ নেতাই নন তিনি ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলাকারী। তাঁকে চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনা মানে শহীদদের সাথে বেঈমানী করা।” ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুসকে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে প্রশাসনকে বিতর্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে বরখাস্তকৃত মোহাম্মদ ইউনুসকে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে না আনতে এবং প্রশাসক বহাল রাখার দাবীতে গতকাল মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস শুধু একজন সন্ত্রাসীই নয় তিনি চিহ্নিত ডাকাত ও জলদস্যু। এছাড়া তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে ছাত্র জনতার আন্দোলনের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত। এ সংক্রান্ত ছবি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। এ অবস্থায় চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা মগনামার মানুষ মেনে নেবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক-০১, মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জলদস্যু সম্রাট খ্যাত মোহাম্মদ ইউনুছ ভোট জালিয়াতির নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শুরু। হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে ১৯ টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তৎমধ্যে জাফর আহমেদ হত্যা ও মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন হত্যা মামলা অন্যতম। তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ ইউনুছের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়ায় আদালতে অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন, আদালত তা গ্রহণ করে ইতিমধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। বিভিন্ন মামলা এবং নানা অপকর্মের কারণে ইউপি কার্যালয়ে তার অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হন।

এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও এতোদিন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কারণে সাধারণ মানুষ তা সহ্য করে আসছিলেন। সর্বশেষ জুলাই-২৪ থেকে ০৫ অগাষ্ট-২৪ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক আদর্শের কারণে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। এসময় আওয়ামীলীগের সভা-সমাবেশ ও হামলার ঘটনায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী এবং লোকজনসহ অস্ত্র সরবরাহ দেন। তিনি নিজেও উপস্থিত থেকে সভা-সমাবেশ পরিচালনা করেন। এমনকি চট্টগ্রামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দ্বিতীয় শহীদ ওয়াসিম আকরাম হত্যার ঘটনার অস্ত্র ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী সরবরাহ করেন বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান ইউনুছ।

গত ০৫ অগাস্ট-২৪ আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে তিনি পালিয়ে যান। পলাতক থাকা অবস্থায় গত ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ গরু জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ আরিফ কে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন।২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর গরু জাহাঙ্গীর কে র্যাব এবং ৩১ অক্টোবর পেকুয়া থানা পুলিশ বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান ইউনুছ কে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন পলাতক এবং পরে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন,জাতীয়তা সনদ, ওয়ারিশ সনদ, পাসপোর্ট এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ স্থানীয় বিচার-আচার, উন্নয়ন থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের কার্যক্রমে যেমন অস্থিরতা নেমে এসেছিল তেমনি হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হওয়ায় অন্তবর্তীকালিন সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের সুফল হিসাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসক ০৫২০.২২০০.১২৬.১১.০৬৫.২০২৪.৪৫৮ নং স্মারকে সহকারী কমিশনার ভূমি কে পেকুয়া উপজেলাধীন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেন।

এরপর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকগণ নির্বিগ্নে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পেয়ে আসছে। ফ্যাসিস্ট দোসর আওয়ামীলীগ নেতা বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ সমস্থ তথ্য গোপন করে মিথ্যা কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে স্থানীয় শত্রুদের কবলে পড়ে একটি হত্যা মামলায় কারাগারে গিয়েছিল উল্লেখ পূর্বক হাইকোর্ট বিভাগে একটি পিটিশন দাখিল করে। হাইকোর্ট বিভাগ শুনানী শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কে নির্দেশনা প্রদান করে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসককে ৩০ (ত্রিশ) কর্মদিবসের ভিতরে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা প্রদান করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন