শাহিদ মোস্তফা , ঈদগাঁও:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সিরাজুল ইসলাম হাতি হত্যা মামলার প্রধান আসামী হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরছে এলাকায়। বন বিভাগের খাতায় পলাতক হলেও এলাকায় করছে সামাজিক বিচার সালিশ।
যদিও বা পুলিশ বলছে তাদের কাছে এখনো আদালতে কাগজ পত্র আসেনি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হবে বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল হালিম।
জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিটের অধীনে চিলিব্বা ঘাট নামক স্থানে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে একটি বাচ্চা হাতির মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেটেরনারী সার্জন দিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে পুঁতে পেলে বাচ্চা হাতিটি। ঘটনাস্থলে মাছের প্রজেক্টের মাছ চোর চক্র থেকে রক্ষা করতে চারপাশে বৈদ্যুতিক জিও তার টাঙিয়ে দেয় প্রজেক্ট মালিক।
সেই জিও তারে জড়িয়ে বাচ্চা হাতির মৃত্যু হওয়ায় সিরাজুল ইসলাম মেম্বারকে প্রধান আসামী করে দুইজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার বন আদালতে মামলা দায়ের করেন ফুলছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বাবুল। যার মামলা নং ০১ (রাজঘাট) ২১/২২।
ঘটনার ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও হাতি হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে।
তারা বলছেন, বন্যপ্রাণী হত্যায় জড়িতরা এভাবেই পার পেয়ে গেলে বনের প্রাণী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে ৷
বন কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বাবুল বলেন, হাতি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক থাকায় আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। যদিওবা প্রধান আসামী সিরাজুল ইসলাম বাড়িতে অবস্থান করে প্রকাশ্যে ঘুরছে, করছে সামাজিক বিচার সালিশ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রাণী হত্যায় জড়িতের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান প্রশাসনের প্রতি।