বিশেষ প্রতিবেদন
কক্সবাজার শহরের জনাকীর্ণ এলাকা সাহিত্যিকাপল্লী। এখানে রয়েছে হাজার পাঁচেক মানুষের বসবাস। যাদের বেশিরভাগই দরিদ্র। অর্থ সংকটের কারণে অনেকেই তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারেন না। ফলে অংকুরেই বিনষ্ট হচ্ছে শত শত শিশু। বঞ্চিত হচ্ছে শিশুকালের দ্বীনী ধর্মীয় শিক্ষা থেকে।
বিষয়টি যথারীতি ভাবিয়েছে এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক এবং ওয়ার্ড কৃষকলীগ নেতা জাভেদ মোস্তফাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্যোগ নিয়ে তিনি সাহিত্যিকাপল্লীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং আলেমদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেন- শিশুরা যেনো বেতন দিতে না পারার অজুহাতে মক্তব শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন। শৈশবের মক্তব শিক্ষা প্রতিটি শিশুর জন্য জরুরী এমনটি অনুধাবন করে এলাকার মক্তব শিক্ষক ও সাহিত্যিকাপল্লী জামে মসজিদের ইমাম খতিবদের তিনি প্রতিমাসে বেতন চালিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চলতি মাসের বেতনও প্রদান করেন তিনি।
এমন উদ্যোগে এলাকাবাসীর মাঝে বেশ আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাড়া ফেলেছে সচেতন মহলেও। স্বাধুবাদ জানিয়ে এলাকায় বসবাসকারী সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষক সহ পেশাজীবিদের সর্ব মহল থেকে জাভেদ মোস্তফার এই মহতী উদ্যোগের সাথে থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
বিশিষ্ট সংগঠক ও ওয়ার্ড কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল বিন দৌহা বলেন- এই কার্যক্রম থেকে আমাদের আলোকিত মানুষ হওয়ার গল্প মনের মধ্যে বীজ বুনে দেয়। গরীব দুঃখী মানুষের ছেলে-মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে দ্বীনি শিক্ষা সু ব্যবস্থা করেছেন তা মনে রাখার মতো একটা বিষয়বস্তু। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি জাভেদ মোস্তফা ভাই এর প্রতি। ওনার মত অনেকেই পাশে এসে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করুক ভালো কাজে।
সাহিত্যিকাপল্লীর প্রাচীন বাসিন্দা জেলার জেষ্ঠ্য সাংবাদিক কামাল হোসেন আজাদ জানান- জাভেদ মোস্তফাদের মতো উদ্যোগী যুবকের বেশ অভাব এই সমাজে। আমাদের প্রতিটি যুবক এভাবে মহতী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলে একদিন এই এলাকা হবে সারা দেশের জন্য আদর্শ একটি এলাকা। সবার উচিত জাভেদ মোস্তফার মতো সুচিন্তা সম্পন্ন যুবকদের পাশে থেকে সহযোগীতা করা।
এবিষয়ে জাভেদ মোস্তফা বলেন- শিশুদের মস্তিষ্ক বিকশিত হবার সময়ে সুশিক্ষার ব্যাহত হলে তারা একদিন সমাজের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। নৈতিক শিক্ষার প্রথম সোপান হলো মক্তব শিক্ষা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পিতা মাতা তাদের সন্তানদের মক্তবে পাঠাতে পারেন না। বিষয়টি অনুধাবন করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান- প্রতিদিন আছরের নামাজের পর এলাকার প্রতিটি শিশু এখন থেকে বিনামূল্যে মক্তব শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। এখন অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো- সন্তানদের যথা সময়ে মক্তবে পাঠিয়ে দেওয়া।
এব্যাপারে সাহিত্যিকাপল্লীর অন্যতম কৃতি সন্তান ও শহর কৃষকলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন এলাকাবাসীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন- প্রতিটি শিশুকেই শিক্ষার আলোই আলোকিত করতে হবে। এধরণের দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ নেওয়ার পরও যেনো কোনো অভিভাবক তার সন্তানদের শিক্ষা অর্জন থেকে দুরে সরিয়ে না রাখেন। সেই সাথে অভিভাবকদের সন্তানদের শিক্ষা অর্জনের ব্যাপারে আরও যতœবান হবার আহ্বান জানান।