• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

কক্সবাজার বাঁকখালী নদী ও প্যারাবন ধ্বংসের ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৫৮২ বার ভিউ
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১
কক্সবাজার বাঁকখালী নদীর প্যারাবন দখল।

কক্সবাজার অফিস

অবশেষে কক্সবাজার শহরের কস্তুুরাঘাটস্থ বাঁকখালী নদী দখল ও প্যারাবন কেটে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়। গত বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) রাতে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম। তবে মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত অনেক প্রভাবশালীর নাম বাদ পড়েছে উল্লেখ করে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ।

তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনা না হলে বাঁকখালী নদী ও প্যারাবন রক্ষা করা যাবে না।
গত বুধবার (১ ডিসেম্বর) কক্সবাজার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কস্তুুরাঘাট এলাকায় অবৈধভাবে প্যারাবন কেটে বাঁকখালী নদী সংযোগকারী খাল ভরাটের স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিম।

মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, কস্তুুরাঘাটস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘ কোস্টাল এন্ড ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি প্রকল্প’ কর্তৃক সৃষ্ট কয়েকশ একর প্যারাবনের প্রায় ১৫ হাজার গাছ কেটে প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে এবং কিছু ভরাটকৃত স্থানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। রুকন উদ্দিনসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে গত ৩ থেকে ৪ মাস ধরে প্যারাবন কেটে খালের জায়গা ভরাট করে দখলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিছু জায়গায় ভরাটকৃত স্থানে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করতেও দেখে পরিবেশ অধিদপ্তরের টিম। একই সাথে বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে ভরাটের উদ্যোগ দেখে টিমটি।

বাঁকখালী নদী দখল ও প্যারাবন কেটে সাবাড় করায় এজাহারে ৭ জনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- মহেশখালী কুতুবজোম ইউনিয়নের মেহেদিয়া পাড়া এলাকার মৌলভী কবির আহমেদের ছেলে রুকন উদ্দিন (৪০), কক্সবাজার সদর ঝিলংজা হাজী পাড়া এলাকার মৃত হাজী আশরাফ আলীর ছেলে আমীর আলী (৪৫), বদরমোকাম কস্তুুরাঘাট এলাকার মো. কামাল ওরফে কামাল মাঝি (৪৮), দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়াস্থ এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ প্রকাশ ঢাকা মুহাম্মদের ছেলে মো. ইসলাম ওরফে খোল বাহাদুর (৫২), আলিরজাহান সাহিত্যিকা পল্লী এলাকার মতিউর রহমান লাল মিয়ার ছেলে আব্দুল মালেক ইমন (৪৩), মহেশখালী চরপাড়া এলাকার মৃত জালাল আহমেদের ছেলে মো. ইফসুফ (৪২) ও কস্তুুরাঘাটস্থ বদরমোকাম এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইব্রাহীম (৩০)। এছাড়া অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৮ থেকে ১০ জন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট প্যারাবন কর্তন এবং জলাশয় ভরাট করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৫(৪) ও ৬ (ঙ) ধারা লংঘন করে একই আইনের ১৫(১) এর ২ ও ৮ মোতাবেক দন্ডনীয় অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাটের বাঁকখালী নদী ও নদীর প্যারাবন রক্ষায় ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন