কক্সবাজার অফিস:
কক্সবাজার শহরে ফেনসিডিল কারবার সিন্ডিকেটের মধ্যে অন্যতম প্রধান মো. মনছুর আলম (৪২)। শহরের ফেনসিডিল আসক্ত বেশিরভাগ ভিআইপি গ্রাহকই তার দখলে। ভিআইপি গ্রাহকের মধ্যে জাহেদ ইফতেখার অন্যতম। মনছুরের কাছ থেকে এরকম অসংখ্য ভিআইপি গ্রাহকের নাম পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
ফেনসিডিল জগতের ‘রাজা’ মনছুর আলম কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডস্থ মোহাজেরপাড়া এলাকার মৃত মনির আহমদের ছেলে মনছুর। তবে গত ৫ বছর ধরে তিনি দ্বিতীয় বউ নিয়ে বসবাস করে আসছেন বাহারছড়া এলাকায়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শহরের নুনিয়াছড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে আমদানী নিষিদ্ধ ভারতীয় ৩০ (ত্রিশ) বোতল ফেনসিডিলসহ দুইজনকে আটক করেছে কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।। দ্বিতীয় দফা অভিযানে তাদের অপর এক সহযোগিকেও আটক হয়।
আটককৃতরা হলেন- শহরের ২নং ওয়াডস্থ উত্তর নুনিয়ার ছড়া শিল্প এলাকা আব্দুর রহিমের ছেলে মো. ঈসমাইল (২৪), ১২নং ওয়ার্ডস্থ কলাতলী উত্তর আদর্শগ্রাম এলাকার মো. কালুর ছেলে মো. রিদুয়ান ওরফে পুতু (২৬) এবং ১০নং ওয়ার্ডস্থ মোহাজের পাড়া এলাকার মৃত মনির আহাম্মদের ছেলে মো. মনছুর (৪২)।
কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মানস বড়–য়া বলেন, ফেনসিডিলসহ আটক ইসমাইল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তার মাদক ব্যবসার সহযোগী মো. রিদুয়ান ওরফে পুতুকে নিয়ে খুচরা বিক্রি করার জন্য নিজ হেফাজতে রাখে ফেনসিডিল গুলো। ঈসমাইলের মা হনুফা বেগমও একজন চিহ্নিত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। মা ছেলে মিলে দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছে শহরে। তাদের রয়েছে বেশ কয়েকজন সহযোগিও।
তিনি আরও বলেন, তিনজন আটকের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ঈসমাইলের মা হনুফা বেগমকে পলাতক আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঈসমাইলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে মো. রিদুয়ান ওরফে পুতুকে নিজ ঘর থেকে আটক করা হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া রিদুয়ান ওরফে পুতু একজন চিহ্নিত ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। পুতুর বাবা মো. কালুও একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। মাদকসহ বহুবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিল কালু। শহরের বাহারছড়া ঈসমাইল্লা পাড়া খ্যাত এলাকায় বসবাস ছিল মাদক ব্যবসায়ী কালুর।
কক্সবাজার শহরের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে কালু এক নামে পরিচিত। ওই এলাকার কয়েকজন পাতি নেতা ও অঘোষিত প্রভাবশালীর ইন্ধনে মাদক ব্যবসার উত্থান ছিল কালুর।
নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে কালুকে মাদক কারবারে সেল্টার দেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। বাবার দেখানো পথ ধরে মাদক ব্যবসায় পা বাড়ান পুতু। মাদকের বিস্তার বাড়াতে এবং নিজেকে নিরাপদ রাখতে কয়েক বছর আগে স্থান ত্যাগ করে আশ্রয় নেন কলাতলী ১২ নং ওয়ার্ড উত্তর আদর্শ গ্রাম এলাকায়। আদর্শগ্রাম গিয়ে জমজমাট মাদকের কারবার চালান পুতু।
পুতুর নেতৃত্বে আদর্শগ্রাম এলাকায় গড়ে উঠে ছোট্ট সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেটে রয়েছে, আদর্শ গ্রাম এলাকার মো. ছিদ্দিকের ছেলে আব্দুল হামিদ ও আব্দুল আজিজ। এছাড়া রয়েছে দক্ষিণ আদর্শগ্রাম এলাকায়ও। মাদক ব্যবসায়ী পুতুর অন্যতম সহযোগি হলো নুনিয়াছড়া শিল্প এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে মো. ঈসমাইল। পুরো এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ঈসমাইলের পরিবারটি।
ঈসমাইলের মা হনুফা বেগম নিজে মাদক বহন করে থাকেন। মা ছেলে দুইজনেই গড়ে তুলে ফেন্সিডিলের রমরমা কারবার। বর্তমানে ছেলে আটকের পর পলাতক রয়েছে হনুফা বেগম। তাদের অন্যতম গডফাদার হলো মোহাজের পাড়া এলাকার মো. মনছুর।
একটি সূত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের ফেনসিডিল গুলো বিক্রি হয় কলাতলী বাইপাস সড়কস্থ বিদুৎ বিতরণ কেন্দ্রের পাশে একটি ছোট্ট পানের দোকানে। ওই পানের দোকানে নিয়মিত খুচরা বিক্রি হয় ফেন্সিডিল। শহরের ভিআইপি গ্রাহকেরা ওই দোকান থেকে নিয়মিত নিয়ে আসে ফেন্সিডিল।