• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় : অবরোধের ক্ষত শুকাচ্ছে বিজয় দিবস ঘিরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৬০ বার ভিউ
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

সারাদেশে টানা অবরোধ কর্মসূচির ফলে গত দেড় মাসের চলমান অবরোধে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে কক্সবাজারের পর্যটন। এ সময়ে পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনেছে কমপক্ষে ৭০০ কোটি টাকা। তবে, সেই ক্ষত শুকাতে চলছে বিজয় দিবস ঘিরে তিনদিনের ছুটি। এরই মধ্যে বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারে ভিড় বাড়তে পর্যটক-দর্শণার্থীদের। এতে জেলার পর্যটন খাতে তিনদিনে ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ঠ নানা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় পর্যটন মৌসুমের। এবারের মৌসুম শুরু হতে না হতেই ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপির ডাকা টানা অবরোধ কর্মসূচি পর্যটন বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে ভরা মৌসুমে প্রতিদিন পর্যটন খাতের সকল অনুষঙ্গ মিলে কমপক্ষে গড়ে ১০-১৫ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ঢাকা-কক্সবাজারের পথে রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় প্রতিদিনই কয়েকশ পর্যটক আসা যাওয়া রয়েছে। যদিও প্রায় ৫০০ আবাসিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এ সংখ্যা অতিনগণ্য।

তবুও চলতি বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গেল ১৪ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত হোটেল মোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। এছাড়া ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলোতেও কোনো টিকিট নেই। সবমিলিয়ে চলমান অবরোধে ধরা ক্ষত কিছুটা পোষানোর স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, এবারে পর্যটনের ভরা মৌসুমকালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটন শুন্য যাচ্ছে কক্সবাজার। তবে-কিছুটা আশা জাগাচ্ছে বিজয় দিবস। ১৪ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল ও কটেজের ৮০-৮৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। গত বুধবার থেকে কক্সবাজারে অর্ধলাখের বেশি পর্যটক রয়েছে। বিজয় দিবস নিয়ে এটি লাখ-দেড়েকে দাঁড়াতে পারে। তবে, সবাই পর্যটক নয়-দর্শণার্থীও থাকবেন।

কলাতলীর পাঁচ তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, দিবস উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে লাখের কাছাকাছি পর্যটক মৌসুমে নিয়মিত আসে। তবে এক মৌসুমের পর্যটক বলা যাবে না। টানা ছুটিতে এমনিতে এখানে লোকজন আসে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের সেমিনার, সভাসহ নানা বার্ষিক কাজ করতে একত্র হয়েছে। তাদেরকে পর্যটক বলা যাবে না। তবুও বলা যায় অবরোধ পর্যটন সেক্টরে যা ঘা তৈরি করেছিল সেই ঘায়ে কিছুটা প্রলেপ দিচ্ছে বিজয় দিবস।

হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, গেল বিজয় দিবসে পর্যটন খাতে হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলেও এবার তা অর্ধেকে নেমে আসবে। এবার বিজয় দিবসের দিন কক্সবাজারে কমপক্ষে দেড়লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করছি।
বাংলাদেশ রেস্তোরা মালিক সমিতির কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম, পর্যটক সেবায় কক্সবাজার শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫০ রেঁস্তোরা রয়েছে। একেকটি রেঁস্তোরায় প্রতিদিন গড় ব্যয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ। অথচ অবরোধে বিকিকিনি হচ্ছে হাজার দশেক টাকা। প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিজয় দিবসে ক্ষতির কিছুটা পোষাতে পারে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, অবরোধে গণপরিবহন বন্ধ। তাই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন কক্সবাজারে আসতে পারছে না বলেই পর্যটনে ধস নেমেছে। গত দেড় মাসে পর্যটন অনুষঙ্গ সকল সেক্টরে প্রায় ৫-৭শ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এ থেকে উত্তোরনের উপায় হলো কক্সবাজারে রেলের সংখ্যা বাড়ানো এবং সারাদেশকে যুক্ত করা। রেল চালু হওয়ার পর মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন পর্যটক আসার সুযোগ পাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন