স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি চিঠি নিয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ২০ মামলার আসামি “জলদস্যু সম্রাট” খ্যাত মোহাম্মদ ইউনুস। বিষয়টি জানাজানি হলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি দিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম সাহেদ।
তিনি বলেন, “মগনামার বহিস্কৃত চেয়ারম্যান ইউনুস একজন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাঠে ভূমিকা রাখা আওয়ামীলীগ নেতা। আন্দোলন চলাকালে তিনি পেকুয়ায় কি ভূমিকা রেখেছেন তা সকলে অবগত। তিনি শহীদ ওয়াসিমকে খুনি তকমা দিয়ে ছাত্র আন্দোলন দমনে মাঠে ভূমিকা রাখেন। তাঁর কর্মকান্ডের ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া তিনি চাঞ্চল্যকর শিক্ষক আরিফ হত্যাসহ প্রায় ২০টি মামলার আসামি।”
তিনি আরও বলেন, “এমন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা আদালত এবং মন্ত্রণালয়ে তথ্য গোপন করে আবারও চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি।”
জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক “জলদস্যু সম্রাট” খ্যাত মোহাম্মদ ইউনুস জালিয়াতির নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
জুলাই’২৪ থেকে ৫ অগাস্ট’২৪ পর্যন্ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুস। এসময় আওয়ামীলীগের সভা-সমাবেশ এবং হামলার ঘটনায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী, লোকজন ও অস্ত্র সরবরাহ দেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সভা-সমাবেশ পরিচালনা করেন।
এমনকি চট্টগ্রামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের দ্বিতীয় শহীদ ওয়াসিম হত্যার ঘটনায় অস্ত্র ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী সরবরাহ করেন চেয়ারম্যান ইউনুস। শুধু তাই নয়, ০২ আগস্ট’২৪ সালে পেকুয়া উপজেলার জরুরি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মিটিংয়ে পেকুয়ার বীর শহীদ ওয়াসিমকে “খুনী” হিসেবে উল্লেখ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
৫ অগাস্ট’২৪ এ আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে পালিয়ে গিয়েও অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধ করেননি। পলাতক থাকা অবস্থায় পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ গরু জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ আরিফকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ইউনুস। উক্ত মামলায় গ্রেফতার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিষ্কার হন তিনি। বর্তমানে জেল থেকে বেরিয়ে আদালত ও মন্ত্রণালয়ে তথ্য গোপন করে আবারও চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও জেলা প্রশাসককে পাওয়া যায়নি। ফলে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।