নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বৃক্ষ রোপণ দিবস’২০২১ পালিত। হিমছড়ি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের যৌথ উদ্দ্যোগে ইউএসএইড’স ইকো লাইফ প্রকল্পের অর্থায়নে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হিমছড়িতে শনিবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বৃক্ষ রোপণ দিবস’২০২১ পালিত হয়েছে। হিমছড়ি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট আয়াছুর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির।
বিশেষ অতিথি ছিলেন নেকম-ইকো লাইফ প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক ড. শফিকুর রহমান,খুনিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মাবুদ ও কক্সবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জণ সাহা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গর্ভানেন্স ম্যানেজার আফরোজা খাতুন ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনিটরিং ম্যানেজার মো. শরিফ ।
অনুষ্ঠান শেষে হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের ১০ টি গ্রাম সংরক্ষণ ফোরাম (ভিসিএফ) কে দশ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। মূলত যারা জীবন জীবিকার জন্য বনের উপর নিভর্রশীল তাদের বিকল্প জীবিকায়নের জন্য এ ক্ষুদ্র মূলধন অনুদান। অনুষ্ঠানে ভিসিএফ ও সিপিজি সদস্যদের নিয়ে র্যালী, দিবসের তাৎপর্য উপস্থাপন, মুক্ত আলোচনা ও ১০ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন– সারা পৃথিবীর পরিবেশ চেতনায় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংগঠন এবং পরিবেশ কর্মীরা এদিনটি আন্তরিকভাবে পালন করছে। প্রকৃতি আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বর্তমানে করোনা মহামারী তথা পরিবেশ সংকটাপন্ন বিশ্ব পরিস্থিতিতে দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পরিবেশই প্রাণের ধারক, জীবনীশক্তির বাহক। পরিবেশেরে ওপর নির্ভর করে মানুষ, অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণী-জীবনের বিকাশ ঘটে। তাই পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে রয়েছে এক যোগসূত্র। তিনি আরও বলেন- আজ (৫ জুন) বৃক্ষ রোপণ অভিযান শুরু হয়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষার্থে আগামী ৩ মাসে অন্তত জনপ্রতি ১০ টি করে গাছ লাগাবো।
ড. শফিকুর রহমান বলেন– ১৯৭৪ সাল থেকে সারা পৃথিবীতে এ দিবসটি জাতিসংঘ এর উদ্যোগে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকভাবে এ দিবসকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫০টিরও বেশি দেশে একযোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়।
কক্সবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জণ সাহা বলেন– বিশ্ব পরিবেশ পরিস্থিতি যেভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, এখানে বৃহত্তর মানবিক উদ্যোগ এবং পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন। আসুন সবাই মিলে নতুন প্রজম্মকে উদ্বুদ্ধ করি, পরিবেশ দুষণ রোধে এগিয়ে আসি এবং প্রতিবেশ রক্ষায় একতাবদ্ধ হই। তাহলেই আমাদের মাটি থাকবে উর্বর, পানি থাকবে দূষনমুক্ত, আমাদের জীবিকা থাকবে সুরক্ষিত এবং শরীর থাকবে সুস্থ এবং পরিবেশ হবে নির্মল।