• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

রাতে শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা; ভোরে সাগরে ছুটবে জেলেরা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৭৪২ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০
১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। আজ রাত ১২ টায় শেষ হচ্ছে সেই নিষেধাজ্ঞা। জেলেরা প্রস্তুত সাগরে যেতে।

আয়াছুল সিফাত:

টানা ২২ দিন আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ১২ টায় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। এরফলে উন্মুক্ত হচ্ছে বঙ্গোপসাগর। ইতোমধ্যে প্রস্তুত জেলেরাও। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোরে সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে জেলেরা। তবে জেলেদের সাগর যাত্রা নির্ভর করছে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর।

বুধবার বিকালে কক্সবাজার পৌরসভার নুনিয়াছটা ফিশারিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা আছে শত শত ট্রলার। ইতিমধ্যে ট্রলারগুলো বরফ-জ্বালানি খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে সাগরে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অনেক ট্রলার ভোরে রওনা দেবে বলে জানিয়েছে জেলেরা। তবে কেউ কেউ আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে সঠিক সময়ে সাগরযাত্রা নিয়ে আশঙ্কা করছেন।

ট্রলারে শেষ মুহুর্তে জালগুলো ঠিকঠাক দেখে নিচ্ছেন জেলেরা

ট্রলারের মালিক আবু মোনাফ জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে কাল থেকে জেলেরা মাছ ধরতে সাগরে যাত্রা করবে। প্রতিটি ট্রলার বরফ-জ্বালানিসহ খাদ্যসামগ্রী প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, আমার ট্রলারে ১৮ জন জেলে। তাদের প্রত্যেকের পরিবারে অগ্রিম খাদ্যসামগ্রী কিনে দিয়েছি। সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকার খরচ হয়েছে।

ট্রলারের মালিক মো: দেলোয়ার জানান, কাল থেকে থেকে জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ফিশারিঘাট, কস্তুরাঘাট, কলাতলী ও দরিয়ানগর, সদরের খুরুস্কুল, চৌফলদন্ডী ,টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া ও পেকুয়ার তিন হাজারের বেশি ট্রলার গভীর সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়বে। অমাবশ্যার প্রভাবে উপকূলের সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে সাগরে ইলিশ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর প্রথম দফায় ৬৫দিন ও দ্বিতীয় দফায় ২২দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের অন্তত ১০ হাজার মৎস্য ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়েন। জেলার হাটবাজারগুলোতেও মাছের সংকট দেখা দেয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে (১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত) মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদফতর সম্মিলিতভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারের জন্য সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই বরাদ্দ পায়নি জেলেরা। এই বরাদ্দ কোথায় দেওয়া হয়েছে সেটাও জানি না। আমাদের কাছ থেকে আইডি কার্ড নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোন সহায়তা পাইনি। দীর্ঘ ২২ দিন মাছ ধরায় জেলে পল্লীতে হাহাকার বিরাজ করে।

জেলে নুর হাকিম বলেন, ‘২২ দিন মাছ ধরা বন্ধের পর সাগরে মাছ ধরার জন্য যেতে পেরে খুশি লাগছে। কিন্তু মনে একটু ভয়ও কাজ করছে। কারণ, সমুদ্র উত্তাল আর জলদস্যুরাও উৎপেতে আছে।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় খুশি জেলেরা।

জেলেরা বলেন, অনেক দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এ কারণে বঙ্গোপসাগর এখন ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছে ভরপুর হবে। জাল ফেললেই ধরা পড়বে ইলিশ, লাক্ষ্যা, কোরাল, পোপা, গুইজ্যাসহ নানা প্রজাতির মাছ। ইলিশ বিচরণ করে ঝাঁকে ঝাঁকে, দলবেঁধে। ইলিশ সমুদ্রের যেখানে বিচরণ করে, সেখানটার পানি লালচে আকার ধারণ করে। এটা যারা ধরতে পারে, তাদের জালেই আটকা পড়ে হাজার হাজার ইলিশ।

তাদের আশা মাছ ধরতে পারলে কপাল খুলে যাবে। মাছ বিক্রির টাকায় দূর হবে জেলেদের পারিবারে অভাব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন