ফয়সাল রিয়াদ ও সাকিব রহমান:
কক্সবাজারের দুরন্ত ফুটবলার মোহাম্মদ জুয়েল। খেলার মাঠে তার ফুটবল নৈপুণ্যে মুগ্ধ ক্রীড়াপ্রেমীরা। স্বপ্ন ছিল জাতীয় ফুটবল দলে খেলার। দেশ ও জেলার সুনাম সমৃদ্ধ করার তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিভে গেল সম্ভাবনাময় মেধাবী এই খেলোয়াড়ের জীবন।

কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড নুনিয়াছড়া এলাকায় তার জন্ম। অল্প বয়সে ২০১৬ সালে জুয়েলের বাবা মারা যান। তিন ভাই ও বৃদ্ধ মা’কে নিয়ে শহরের উত্তর: তারাবনিয়াছরা, পুরাতন কর্মাস কলেজ রোডের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকত। অভাব তাদের সবসময় তাড়িয়ে বেড়াত। তার ভাই সৈকতে ফটোগ্রাফারের কাজ করে চলত সংসার। জুয়েলও একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানীতে চাকরী করত। কিন্তু ফুটবলের নেশায় সে চাকরী থেকে অব্যাহতি নেয়।
তার পরিবার জানায়, ছোটকাল থেকে ফুটবলের প্রতি তার ব্যাপক দুর্বলতা ছিল। বল দেখলেই নেমে পড়েন খেলতে। খেলতে গিয়ে আসে নানা বাঁধা। কিন্তু কোন কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। তার শৈল্পিক খেলা নজরকাড়ে ক্রীড়া সংগঠকদের। তাকে স্টেডিয়ামে অনুশীলন করার জন্য ডাকা হয়। সেই থেকে শুরু হয় তার সফলতার গল্প।

জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ) সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে জেলা ফুটবল দলের নিয়মিত খেয়োলাড় ছিল সে। নিজ যোগ্যতায় অল্পদিনের মধ্যে ভাগিয়ে নেন জেলা অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দলের অধিনায়কত্ব। সম্প্রতি শেষ হওয়া যুব গেমস ফুটবলে তার নেতৃত্বে দল অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করে। জেলার বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টেও তার সরব পদচারণা ছিল। টুর্নামেন্টে দলের হয়েও রাখেন অনন্য কৃতিত্ব। কিন্তু তার মৃত্যু পাল্টে দিয়েছে সব হিসাব-নিকাষ। এখনও ক্রীড়াঙ্গনে তাকে হারানোর বেদনা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সবাইকে।
জেলা ফুটবল দলের কৃতি ফুটবলার সাজ্জাদ ইকবাল রোহান ও রুবেল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ছোটকাল থেকে জুয়েলের সাথে তাদের সম্পর্ক। মাঠেজুড়ে তার অসমান্য দাপুটে খেলা সবাইকে মুগ্ধ করত। কোনভাবেই সতীর্থরা তার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না। তার মৃত্যুতে সত্যিই ক্রীড়াঙ্গন হারালো মেধাবী একজন খেলোয়াড়।

জুয়েলের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জুয়েল ছিল আদরের মানিক। তাকে বলেছিলাম বিদেশ চলে যেতে। কিন্তু ছেলে কথা শোনে।ি সে বলেছিল, ৫ বছরের মধ্যে ফুটবলে ব্যাপক সফলতা পাবে। তখন আর কোন চিন্তা থাকবে না। অভাবও দূর হয়ে যাবে। বিদেশের চেয়েও বেশি আয় করবে। কিন্তু কিছুই হলনা। কোথায় আমার ধন। আমার আগেই সে পাড়ি জমাল ওপারে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি অনুপ বড়–য়া অপু বলেন, তার মধ্যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিল। ২০১৮ সালে যুব ফুটবল গেমসে সে দলকে নেতৃত্বে দিয়েছে। অল্প বয়সে তার চলে যাওয়া অপ্রত্যাশিত। পারিবারিক সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা সবসময় তার পরিবারের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে সকাল ১১ টার দিকে সদর উপজেলার বাংলাবাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় জুয়েল। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ সময় ১৯৫৪ ঘণ্টা, ৭ জুলাই ২০২০
এফআর/এসআর/আএন