কক্সবাজার অফিস:
বিধবার শেষ সম্বল ছিল ঘরটি। হঠাৎ আগুন লেগে সেই ঘরটিও ছাই হয়ে যায়। করোনা সংকটের এমন দুর্দিনে নিঃস্ব হয়ে পড়ে অসহায় বিধবার পরিবারটি। যখন ঘর পুড়ছিল তখন প্রতিবন্ধি মেয়েকে রক্ষা করতে আগুনে ঝাপ দেন ৭০ বছরের এই বৃদ্ধা। ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও প্রতিবন্ধি মেয়েকে প্রাণে রক্ষা করেছেন মা।
বিধবার এমন মানবেতর বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। দ্রুত পৌঁছে দিয়েছেন পর্যাপ্ত খাবার সামগ্রী। নতুন ঘর নির্মাণের জন্য টিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও দিয়েছেন। আজকালের মধ্যেই তৈরী হয়ে যাবে বিধবার নতুন ঘর।

রোববার ( ৫ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার শহরের ৮ নং ওয়ার্ডস্থ বৈদ্যঘোনা এলাকায় একটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘরটিতে আশ্রয়ে ছিল জুহুরার আম্মা (৭০)। পুরো এলাকায় জুহুরার আম্মা নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা। পুড়ে যাওয়া ঘরের একটি সচিত্র প্রতিবেদন রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ ভয়েস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমে’ http://voiceworld24.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%98%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a7%87-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8/।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ওই বৃদ্ধার স্বামী মারা গেছে বহু বছর আগে। ৫ সন্তান নিয়ে এমনিতেই মানবেতর দিন কাটে তাদের। এরমধ্যে এক মেয়ে প্রতিবন্ধি। নেই নিজস্ব কোনো ঘর কিংবা ভিটে। এক আত্মীয়ের জায়গায় কেয়ারটেকার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়ে আছেন তিনি। বাঁশ ও টিনের তৈরি ছোট্ট সেই ঘরটিও এখন পুড়ে ছাই। মাথাগোজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবারটি চরম অসহায়। দিনমজুরি বন্ধ থাকায় আয়ের পথও বন্ধ।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেনি। ঘর যখন পুড়ছিল তখন প্রতিবন্ধি মেয়েটি ঘরের ভিতরে ছিল। ওই সময় সেই বৃদ্ধা প্রতিবন্ধি মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য আগুনোর মধ্যে ঝাপিয়ে পড়েছিল। প্রাণে রক্ষা পায় প্রতিবন্ধি মেয়েটি। তবে কোমরে ব্যথা পাওয়ায় দাঁড়াতে পারেননা ওই বিধবা।
‘ভয়েস ওয়ার্ল্ড’ এর প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার দেন রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার এর সভাপতি এইচ এম নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতে যখন ঘর পুড়ে যাওয়ার নিউজটি শেয়ার করি; তখন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন স্যারের নজরে পড়ে। ওই কমেন্টে জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কমেন্টে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন করেছেন তিনি।

এইচএম নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে প্রয়োজনী পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে পুড়ে যাওয়া ওই বৃদ্ধার পাশে ছুড়ে গেলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার। এসময় আরও ছিলেন কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুব আলম।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, ভয়েস ওয়ার্ল্ডে নিউজের সূত্রে ফেসবুকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বিষয়টি অবগত হন। এরপর ডিসি স্যারের নির্দেশে শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকায় ওই স্থানে যায়। দেখেছি পুড়ে যাওয়া ঘরের চিত্র এবং অসহায় বিধবার দুর্দিন। পাশের একটি ঘরের ছোট্ট উঠানে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে অসহায় এই মহিলা ও তার প্রতিবন্ধি মেয়ে।

জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা বলেন, তাৎক্ষণিক এই পরিবারে পর্যাপ্ত খাবারের সহায়তা দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে খাবার সহায়তা অব্যাহত থাকবে। নতুন করে ঘর নির্মাণ করার জন্য টিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়াও এই বিধবার পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে বলে জানান।