• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

মোখার তান্ডবে কক্সবাজারে ১০ হাজার ঘর বিধ্বস্ত : লন্ডভন্ড সেন্টমার্টিন

জয়নাল উদ্দিন: / ২১৬ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩

ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ কক্সবাজার উপকূলজুড়ে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সেন্টমার্টিন। বিধ্বস্ত হয় ১২ শ  বাড়িঘর। এই তান্ডবে জেলায় অন্তত ১০ হাজার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এর মধ্যে ২ হাজার ঘর পুরোটাই বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি। তবে ক্ষতিগ্রস্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে আরও সময় লাগবে বলেও জানান কক্সবাজার  জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে- ঘূর্ণিঝড় মোখা কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া ও টেকনাফে তান্ডব চালিয়েছে। এতে দুর্যোগ কবলিত হয়েছে ৩টি পৌরসভাসহ ৫৭টি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ১০ হাজার ৪৬৯টি বাড়িঘর। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ২ হাজার ৫২২ টি ঝুপড়ি ঘর।

জেলা প্রশাসক বলছে- গতকাল রোববার বিকাল পর্যন্ত জেলার ৭ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৪১ জন মানুষ আশ্রয় নেন। তাদেরকে খাবারও দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রোববার সন্ধ্যার পর থেকে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে স্ব স্ব বাড়িতে ফিরে যান তারা।

এদিকে ‘মোখা’ রোববার দুপুরের পর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে আছড়ে পড়তে শুরু করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দ্বীপটি। সেখানে কয়েকশ ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন- মোখার তান্ডবে সেন্টমার্টিনে প্রায় ৯০ ভাগ বাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের ছোট বড় হাজারো গাছ ভেঙে গেছে। এতে গাছ পড়ে আহত হন ৬ জন মানুষ। কেউ নিহত হয়নি।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, রোববার সকাল থেকে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকায় দ্বীপে অনেক গাছপালা ও ১২০০ বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। বসতবাড়ির মানুষগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে মানুষ গুলো বাড়ি ফিরে। কিন্তু বাড়ি ফিরলে অনেকেই বাড়ি নেই। মোখার তান্ডবে ধংস হয়ে গেছে অনেকের বাড়ি।

সেন্টমার্টিন ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়ন, উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী, পাটুয়ারটেক, সোনাপাড়া এলাকা। যেখানেও ব্যাপক সংখ্যক ঘর ও গাছ ভেঙে গেছে।

টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়নের গাছের ওপর তান্ডব চালিয়েছে মোখা। এসব এলাকার ৩০ শতাংশ গাছ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বহু ঘর ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিন বাদ দিলে টেকনাফ উপজেলায় আরও কম হলেও এক হাজার ঘর ভেঙে গেছে।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যমতে ব্যাপক সংখ্যক গাছ ভেঙে গেছে। জেলায় ১০ হাজার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর ২ হাজারের বেশি। এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন মিলে ক্ষতির পরিসংখ্যান নির্ধারণে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এর সঠিক চিত্র পেতে সময় লাগবে।’

একই সঙ্গে জোয়ারের পানিতে নতুন করে বেড়িবাঁধের কিছু এলাকাও ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। তা নির্ধারণেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

কক্সবাজার আঞ্চলিক আবহাওয়া কার্যালয়ের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, রোববার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন