• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

কলাতলীতে তিন পরিবারে ইয়াবার ‘রাজত্ব’

নিজস্ব প্রতিদেক / ১০৫২ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১
তিন পরিবারে সাতজন কারাভোগ করা আসামী। ছবি: ভয়েস ওয়ার্ল্ড।

বিশেষ প্রতিবেদক

কক্সবাজার শহরের মধ্যম কলাতলী এলাকার আলোচিত তিন পরিবারের জমজমাট ইয়াবা কারবার চলছে প্রকাশ্যে। বিভিন্ন অপরাধে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও জামিনে বের হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক কারবার। ইয়াবা মামলা, ডাকাতি মামলা, ছিনতাই মামলা, অস্ত্র মামলা ও হত্যা মামলাসহ নানান অপরাধে তারা জড়িত রয়েছে। এসব মামলা মাথায় নিয়ে মাদক ব্যবসায়ে এখন প্রকাশ্যে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ কক্সবাজার হাসপাতাল সড়ক থেকে ইয়াবাসহ আটক হয়েছিল আব্দুল খালেক। র‌্যাব-৭ অভিযান চালিয়ে খালেকসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছিল ২ হাজার ৯৮০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ। আব্দুল খালেক কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড মধ্যম কলাতলী এলাকার মৃত মীর কাশেমের ছেলে। র‌্যাবের হাতে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার আগেই ডিবি পুলিশের হাতেও ইয়াবাসহ আটক হয়েছিল খালেক। ইয়াবাসহ এতো বার আটক হলেও বন্ধ হয়নি তার ইয়াবা কারবার। তার ইয়াবা কারবার এখনো প্রকাশ্যে। এলাকায় তাকে ইয়াবা খালেক হিসেবে সবাই চেনেন। বলতে গেলে ইয়াবা ব্যবসা তার এখন নেশায় পরিণত হয়েছে।

     ইয়াবাসহ আটক আব্দুল খালেক।

খালেকের ইয়াবা নেশায় আসক্ত হয়ে জড়িয়ে পড়েন তার ভাই মোস্তাক আহমদও। আব্দুল খালেক ও মোস্তাক আহমদ দুই আপন ভাই। ২০১৫ সাল থেকেই এই দুই ভাইয়ের ইয়াবা কারবার শুরু হয় বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। এরিমধ্যে মোস্তাকের রয়েছে কক্সবাজার টেকনাফ লাইনে বাসও। টেকনাফ লাইনে বাসের সূত্র ধরে জমজমাটভাবে চলে দুই ভাইয়ের ইয়াবা কারবার। তবে চার বছর আগে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ আটক হয়েছিল মোস্তাক আহমদ ও আব্দুল খালেক। মোস্তাকের নিজ মালিকাধীন বাস থেকেই ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। মোস্তাক গাড়িসহ ইয়াবা নিয়ে আটকের বিষয়টি তাৎক্ষণিক তোলপাড় সৃষ্টি হয় পুরো কলাতলীতে। সেই সময় ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরও কৌশলে ম্যানেজ করে মোস্তাক সিন্ডিকেট। ইয়াবা মোস্তাকের বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতি মামলাও। এই দুইভাই মিলে এখনো চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। বর্তমানে প্রকাশ্যে ইয়াবা কারবার চালিয়ে গেলেও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ইয়াবা কারবারি আব্দুল খালেক ও মোস্তাক আহমদের আপন ভাই সোলতান আহমদ। সোলতান আহমদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপর্কমের গুঞ্জুন চললেও কেউ প্রকাশ্যে নন। তবে বনকর্মীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপর্কমের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মধ্যম কলাতলী এলাকার মৃত মীর কাশেমের (খালেক ও মোস্তাকের পিতা) বড় ভাই নুরুল ইসলাম ওরফে লাইন্সম্যান নুরুল ইসলাম। আবুল মনছুর ও মো. আবছার লাইন্সম্যান নুরুল ইসলামের ছেলে। তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ। ইয়াবাসহ তারাও আটক হয়েছিল।

আবুল মনছুর কক্সবাজার শহরে সর্বপ্রথম ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আটক হয়েছিল এবং প্রথম ইয়াবা মামলার আসামিও। ২০০৭ সালের দিকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ইয়াবাসহ তাকে আটক করেছিল। এরপর বছরখানেক কারাগারেও ছিলেন তিনি।
২০১৯ সালের ২৭ মে জি.আর ২১২/০৭ ও এস.টি ২৭৭/০৭ মামলায় কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে আবুুল মনছুরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকার অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। মাদকদ্রব্য আইন ১৯৯০ এর ১৯(১) ধারায় ৯(খ) ধারায় অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা প্রদান করা হয়। ২০১৯ সালের মাঝখানে তিনি ফের কারাগারেও যান এই সাজা মাথায় নিয়ে।

এমনকি ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ কলাতলী বে ভিউ হোটেল থেকে মনসুরের ছোট ভাই মো. আবছারকেও আটক করেছিল পুলিশ। আবছারও একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত। ফার্মেসির আড়ালে আবছারের ইয়াবা ব্যবসা বলে জানা গেছে।

লাইন্সম্যান নুরুল ইসলাম ও মৃত মীর কাশেমের আপন ছোট ভাই হাসান ফকির। হাসান ফকিরের ছেলে আব্দুল্লাহ মিঠু, জোবাইর হোসেন যুবু ও কামরুল হোসেন কান্নুইয়া’র বিরুদ্ধে রয়েছে ছিনতাই, হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা।

   ছিনতাইকালে ডিবি পুলিশের হাতে আটক মিঠু।

এরিমধ্যে জোবাইর হোসেন যুবু’র বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা ও ডাকাতি মামলা। প্রায় ৮ বছর আগে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডে পর্যটকদের ডাকাতিকালে রামু থানা পুলিশ যুবুসহ বেশ কয়েকজন ডাকাত দলের সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশিয় অস্ত্র ও মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৫ বছর আগে কলাতলী এলাকায় আলোচিত ইলিয়াস হত্যা মামলার অন্যতম আসামী জোবাইর হোসেন যুবু। এসব ঘটনায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল যুবু। কারাগার থেকে বের হয়ে শুরু করে ইয়াবা কারবার। বর্তমানে কলাতলী এলাকায় প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাট ইয়াবা কারবার। তবে যুবু’র ইয়াবা ব্যবসা রয়েছে খুচরা পর্যায়ে। ইয়াবার টাকায় কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে চালু করেছে প্রাইভেট কারও। প্রতিনিয়ম বাড়ির সামনে খুচরা ইয়াবা কারবার করে যাচ্ছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। খুচরা ইয়াবা ব্যবসা করতে তার রয়েছে কয়েকজন কর্মীও।

যুবু’র ভাই কামরুল হোসেন কান্নুইয়া একজন পেশাদার ছিনতাইকারী ও ইয়াবা কারবারি। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতি, অস্ত্র ও ইয়াবা মামলা। ভাইয়ের হাত ধরেই সেও চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা কারবার। এসব অপরাধে দীর্ঘদিন কারাগারেও ছিল কামরুল হোসেন। বর্তমানে তার এসব অপকর্ম থেমে থাকেনি। চলছে প্রকাশ্যে।
যুবু ও কান্নুইয়া’র বড় ভাই আব্দুল্লাহ মিঠু। ২০২০ সালের শুরুতে বাহারছড়া গোল চত্বর এলাকায় ছিনতাইকালে মোটর সাইকেলসহ আটক হয়েছিল আব্দুল্লাহ মিঠু। এই ঘটনায় কারাগারে গিয়েছিল কলাতলীর আলোচিত মিঠু।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম কলাতলী এলাকার এই তিন পরিবারের সবাই বিভিন্ন অপর্কমে লিপ্ত। তাদের মূল পেশা হল ইয়াবা কারবার। অনেকেই চিহ্নিত ছিনতাইকারি ও ডাকাত। আব্দুল খালেক, মোস্তাক আহমদ, আবুল মনছুর, মো. আবছার, জোবাইল হোসেন যুবু, কামরুল হোসেন কান্নুইয়া ও আব্দুল্লাহ মিঠু সবাই বিভিন্ন অপরাধে কারাগারে গিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলাও। বর্তমানে তাদের এসব অপকর্ম থেমে নেই। সবাই এসব পরিবারের কাছে জিম্মি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া তাদের ইয়াবা কারবারসহ বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধ হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন