নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রায় এক বছর পর আবারো কক্সবাজার সৈকতের কাছাকাছি সমুদ্রের পানিতে দেখা মিলেছে ডলফিনের পাল। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিন ডলফিনের পাল দেখেছেন সৈকতের জেটস্কি চালক ও লাইভ গার্ড কর্মীরা। সাগরতীর কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ডলফিন নাচানাচি করতে দেন শহরের ঘোনার পাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈকতের জেটস্কি চালক সোনা মিয়া।
গত শুক্রবার (১২ নভেম্বর) নিঝুম সকালে ডলফিনের ছুটাছুটির ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন সৈকতের জেটস্কি চালক সোনা মিয়া। জেটস্কি নিয়ে সাগরে গিয়ে তেরো মিনিট ধরে ডলফিনের সাথে খেলায় মেতেছিলেন তিনি।
সোনামিয়া বলেন, আমি সাগরে নিয়মিত জেটস্কি চালায় পর্যটক নিয়ে। প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবারও জেটস্কি নিয়ে সাগরে যায়। ওই সময় কলাতলী পয়েন্ট থেকে এক কিলোমিটার দূরে সাগরে ডলফিনের একটি পাল দেখতে পায়। ওই পালে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মতো ডলফিন রয়েছে। ডলফিন গুলো নাচতে নাচতে কলাতলী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা হয়ে সোনাদিয়ার দিকে চলে যায়। সাগরে এক ঘন্টা মতো নাচানাচি করছিল ডলফিন গুলো। এমনকি ডলফিনের নাচানাচির ও ডোব-সাঁতারের প্রায় ১৩ মিনিট ভিডিও করি আমি।
এছাড়া গত শুক্রবার সকালেও শৈবাল পয়েন্ট ও লাবণী পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ডলফিনের আরেকটি পাল। তবে ওই পালে ১০ থেকে ১২টির মতো ছিল।
কক্সবাজার সৈকতের বীচকর্মী মাহাবুুবুল আলম বলেন, ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় মজার এই প্রাণীটি দাপাদাপি করে সৈকতের লাবণী থেকে কলাতলী পয়েন্টের সীমানায়। কখনো দু’একটা করে, দল বেঁধে কখনো কখনো, সাগর জলে সাঁতার-ডোবা খেলায় মাতে ডলফিন। ভোরের কুয়াশায় সৈকতে যখন পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে, তখনেই সমুদ্রে একটু দুরে দেখা মিলছে ডলফিন পালের। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেখা মিলেছে ডলফিন। তবে সবসময় দেখা মিলে না।
সাগরের সাথে সবসময় যাদের সখ্যতা, লাইফগার্ড কর্মীরা বলছেন, শীত মৌসুমে মাছ চলে আসে সাগরের কিনারায়। তাই ডলফিনও মাছ শিকারে আসে সমুদ্র পাড়ের কাছাকাছি। ডলফিনের এই দৃশ্যের প্রতিদিন দেখা মেলেনা। সৈকতের কাছেই আরো একবার ডলফিনের দেখা মিলেছিল সেই করোনার শুরুর দিকে। স্তন্যপায়ী এই প্রাণীটি বহু জাতের হয়। তবে সমুদ্র উপকূলে যা দেখা যায়, তা মূলত শুশুক জাতের ডলফিন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০২০ সালের মার্চ মাসের দিকেও সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে ডলফিনের দেখা মেলে। ১০ থেকে ১২টি ডলফিনের এই দলটি উপকূলের একদম কাছে চলে এসেছিল। এসময় উপস্থিত স্থানীয়রা পাড় থেকেই ডলফিনের খেলা উপভোগ করেন।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, কক্সবাজারের সোনাদিয়া ও মহেশখালী চ্যানেলে কিছু ডলফিন বসবাস করে। সেগুলোই পরিচ্ছন্ন পানি পেয়ে কলাতলী পর্যন্ত ঘুরে আবার আগের জায়গায় হয়তো ফিরে গেছে।