• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

টার্গেট রোহিঙ্গা নারী: পাচারের মূলহোতা বাংলাবাজারের বশির

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৬২ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১
কক্সবাজার বাংলাবাজারের বশির।

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে রয়েছে অল্প বয়সী তরুণ তরুণী। ক্যাম্পের এসব তরুণীদেরকে টার্গেট করে কিছু মানবপাচারকারীর সক্রিয় দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তাদেরকে বিয়ে ও নানান প্রলোভন দেখিয়ে এসব রোহিঙ্গা নারীদেরকে পাচার করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এরিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মানব পাচারকারীর মূল হোতা কক্সবাজার বাংলাবাজার এলাকার উলা মিয়ার ছেলে বশির আহমেদ।

এক সময় স্থানীয় বাংলাদেশি নারীদের নিয়ে টার্গেট থাকলেও পাচারকারী সদস্যরা এখন টার্গেট করছে রোহিঙ্গা নারীদের। রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ দালাল চক্রের সদস্যদের মূল টার্গেট থাকে শরণার্থী ক্যাম্প গুলোতে।

ইতিপূর্বে নারী-পুরুষ উভয় টার্গেট থাকলেও পাচারকারী সদস্যরা সাম্প্রতিক সময়ে নারীদেরই টার্গেট বেশি করে থাকে। বিয়ের কথা বলে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে মোটা অংক অর্থের বিনিময়ে পাসপোর্ট তৈরি করে সৌদি আরব মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোই মূল টার্গেট তাদের।

যাতে রোহিঙ্গারা কৌশলে দেশের জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারে। সেজন্য কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যেহেতু সীমান্তবর্তী জেলায় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ঠেকাতে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করছে কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিস। তাই এসব নারীদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায় সেখান থেকেই পাসপোর্ট সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করছে শক্তিশালী দালাল চক্রের মূল হোতা বশির।

সরেজমিন তদন্তে উঠে আসে দালাল বশির শরণার্থী ক্যাম্পের ও গ্রামের সহজসরল নারী পুরুষদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সরলতাকে অপব্যবহার করে তাদের সাথে ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা করে ছিটকে পড়েন। গেলো কিছুদিন আগেও এক নারীকে পাসপোর্ট করানোর জন্য ঢাকা নিয়ে গিয়ে এক এজেন্সির কাছে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে কন্টাক্টে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আসে। এবং তার ডকুমেন্ট তৈরির জন্য গাজীপুর নিয়ে গিয়ে আরেকজনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। ঐ নারীকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থানের ভিডিও প্রতিবেদক এর কাছে সংরক্ষিত আছে।

রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুরা এলাকার আফসার কামালের ছেলে হামজালা ও তার এক বন্ধু আনচার আলীকে, সৌদিআরবে পাঠানোর কথা বলে দুই লক্ষ টাকা এবং দুটি পাসপোর্ট নেয় পরে মেডিকেল এবং বিদেশে যাওয়ার সকল কার্যক্রম শেষ করার পরবর্তীতে জানতে পারে বশির একজন প্রতারক। তাদের পাসপোর্ট এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ছটকে পড়ে এই প্রতারক। পরে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় বশিরের বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিচার সালিশ বসলে, বিচারকদের পাসপোর্ট ও টাকা ফেরত দেওয়ার তারিখ দিয়ে ছিটকে পড়েন। বশিরের প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে আজ অসহায় পরিবারগুলো প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বশিরের সহযোগী হিসেবে কাজ করে হাবিব ও আরও ৪-৫ জন দালাল। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার সহজসরল নারী পুরুষদের এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভিড়িয়ে আনেন।

বশিরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বশিরের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো চ্যাটিংয়ের কিছু ডকুমেন্টস এই প্রতিবেদকের কাছে জমা দিয়েছেন। সেখানে বশির ও তার সাথে গ্রামের বিভিন্ন নারী পুরুষ ও রোহিঙ্গা নারীদের কিভাবে বুলিয়ে-ভালিয়ে আনেন তার প্রমাণ রয়েছে।

এ বিষয়ে বশির বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সব মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র। আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুন্ন করতে এসব করা হচ্ছে। আমি কারও কাছ থেকে ভিসা দেওয়ার নাম করে টাকা কিংবা পাসপোর্ট জমা নেইনি। আর রোহিঙ্গা ভোটারের প্রশ্নই আসেনা। এসব বানোয়াট ও মনগড়া অভিযোগ।

তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার সহজ সরল ব্যক্তিদেরকে বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন