বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার কলাতলী উত্তর আদর্শগ্রাম এলাকায় শফিউল আলম সুমন নামে এক হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল খৎনায় পুরুষত্ব হারিয়েছে সোহাত মনি (১৩) নামের এক কিশোর। বর্তমানে ওই শিশু কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
সোহাত আদর্শগ্রাম এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে। হাতুড়ে ডাক্তার সুমন টেকনাফ হ্নীলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে আদর্শগ্রাম এলাকায় আলোচিত ভূমিদস্যু ইলিয়াস সওদাগরের দখলীয় ভাড়া বাসায় থাকেন। একই সাথে উত্তর আদর্শগ্রাম এলাকার প্রবেশ মুখে একটি ফার্মেসী খুলে ভূয়া চিকিৎসা বাণিজ্য করেন।
অভিযোগে জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে হাতুড়ে ডাক্তার সুমন খৎনা করান আদর্শগ্রামের শিশু সোহাত মনিতে। খৎনা করাতে গিয়ে তার পুরুষাঙ্গের একটি রগ কেটে পেলেন সুমন। এতে শিশুটি অস্বাভাবিক আচারণ শুরু করেন এবং প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়। ডাক্তারের ভুল খৎনার বিষয়টি আচঁ করতে পেরে পরিবারের লোকজন শিশু সোহাতকে তাৎক্ষণিক কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ডাক্তার শিশুটিকে ভর্তি দেন হাসপাতালের ৫ম তলার ২৮ নাম্বার বেডে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুল খৎনা করায় শিশুটি তার পুরুষত্ব হারিয়েছে। পুরুষাঙ্গের একটি রগও কেটে গেছে। শিশুটি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে কোনো অপারেশনের মাধ্যমে সমাধান করা যায় কিনা।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছে, ঘটনার পরপরেই হাতুড়ে ডাক্তার পলাতক রয়েছে। ফার্মেসী বন্ধ করে গত কয়েকদিন ধরে লাপাত্তা সুমন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ফার্মেসী খুলে ডাক্তারি করে যাচ্ছে কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়া। তার কাছে খৎনা করানোর কোনো অনুমতিও নেই।
এদিকে ঘটনার পরপরে পলাতক হাতুড়ে ডাক্তার সুমনকে রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে আদর্শগ্রাম সমাজ কমিটির কয়েকজন নেতা। সমাজ কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন সেই ডাক্তারকে রক্ষা করতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাছিরের নেতৃত্বে একটি পক্ষ হাতুড়ে ডাক্তারকে রক্ষা করতে ভুক্তভোগি পরিবারকে হুমকিও দিচ্ছে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাতুড়ে ডাক্তার শফিউল আলম সুমন বলেন, অনাকাঙ্খিত ভুলে এমন ঘটনা ঘটেছে। সওয়াবের জন্য আমি খৎনা করেছি। অতীতেও অনেকজনকে খৎনা করেছিলাম। তবে খৎনা কারানোর অনুমতি না থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পলাতক নেই দাবী করে বলেন, আমি পালিয়ে যায়নি, হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে গিয়েছিলাম।