মোহাম্মদ হোসাইন-
পাঁচটি পাহাড়ের ২২ টি স্পটে পাহাড় কাটা হচ্ছে নির্বিচারে। পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে অবৈধ বসতি। পাহাড় কেটে সমতল করে বিক্রি করা হচ্ছে প্লটও। এভাবে পাহাড় কাটতে গিয়ে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক পাহাড়, অন্যদিকে পাহাড়ের মাটি নিচু এলাকায় গিয়ে বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট এবং বিসিক শিল্প নগরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কাদামাটিতে তলিয়ে যাচ্ছে। লিংক রোড বন বিট কর্মকর্তাকে এলাকাবাসী কয়েকদফা অভিযোগ করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, লিংক রোডের দক্ষিণ মহুরি পাড়ার বিসিক শিল্প নগরীর দক্ষিণ পাশের সীমানা প্রাচীর থেকে পাঁচটি বিশাল আকৃতির পাহাড় কাটা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাঁচটি পাহাড়ের ২২ টি স্পটে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে অন্তত ২৫ ব্যক্তি। পাহাড় কেটে বনভূমিতে অবৈধভাবে বসতি নির্মাণের পাশাপাশি পাহাড় সমতল করে প্লটও বিক্রি করছে একটি ভূমিদস্যু চক্র।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, লিংক রোডের দক্ষিণ মহুরি পাড়ার বিসিক শিল্প নগরীর দক্ষিণ পাশে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে রায়হান সিকদার, নুর হোছন, মৃত নুর মোহাম্মদ এর পুত্র নাছির উদ্দীন, মৃত কাছিম আলীর পুত্র আবু তাহের, মোহাম্মদ উল্লাহর পুত্র ছৈয়দ আলম, মোহাম্মদ শফির স্ত্রী নুর কায়েদা, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ফাতেমা বেগম, মোহাম্মদ শফি, নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ বাহাদুল্লাহ, মাহবুবুল আলম পেঠান, শাহজাহান, শাহ আলম, হোসেন আহমদ, রাশেদ ও মোস্তফা আহমদসহ ২৫ জন ব্যক্তি।
প্রকাশ্যে দিনে-রাতে এসব ব্যক্তির পাহাড় কাটার ফলে একদিকে পাহাড় শেষ হয়ে বনভূমি বেদখলে চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়ের কাদামাটিতে নিচু এলাকার রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি এবং বিসিক শিল্প নগরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তলিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর শিল্প নগরী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,’রাতের বেলা সবচেয়ে বেশি পাহাড় কাটে, দিনের বেলায় আমরা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করি। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে কাদামাটি এসে বিসিক এর আভ্যন্তরীণ রাস্তা-ঘাট ও স্থাপনা তলিয়ে যাচ্ছে। ‘
লিংক রোড বন বিট কর্মকর্তা গাজী বাহারুদ্দিন বলেন, ‘পাহাড় কাটার ঘটনা সত্যি। বেশ কয়েকবার তাদের নিষেধ করা হয়েছে। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ‘
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা পাহাড় কর্তনকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
অপরদিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি জেনেছি। ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।