নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবী একটাই “মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে সেতু” বাস্তবায়ন করা হউক। ইতোমধ্যে সেতু নির্মাণে একাধিকবার সম্ভাব্যতা যাছাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেতু নির্মাণের দাবীতে শনিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে অনশন করেন মহেশখালীর শিক্ষক ও সাংবাদিক আমিনুল হক।
সেতুর দাবীতে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনশনকারী শিক্ষক ও সাংবাদিক আমিনুল হককে জুস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল মামুন।
এসময় আমিনুল হক বলেন, মহেশখালী বাসী তথা যাত্রী সাধারণকে শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে এ নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। এমনও নজির আছে যে, ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারি রোগীকে মহেশখালী থেকে কক্সবাজার রেফার করলে যাতায়াতকালে নদীপথে বোটের মধ্যেই ডেলিভারি হয়ে যায়। যার প্রমাণ হচ্ছে, গতকাল শনিবার সকালে মহেশখালী পৌরসভার দক্ষিণ পুটিবিলা এলাকার আব্দু ছবুরের স্ত্রীর প্রসব বেদনা হলে তাকে কক্সবাজার নেওয়ার পথে স্পীড বোটেই তার ডেলিভারি হয়। এসময় মা বেঁচে গেলেও নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।
এছাড়াও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার অনেকের যাতায়াতও অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাত্রে জরুরি মূহুর্তে বোট পাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়ে। আবার রাত্রে চলাচলও নিরাপদ নয়।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮৪ সালে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে বাঁকখালীর মোহনায় যাত্রীবাহি নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এর পিতা এডভোকেট এসএম রফিক উল্লাহ। এসময় আরো বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। এইভাবে এই চ্যানেলে আরো কতজনের প্রাণহানি ঘটেছে তার হিসাব দীর্ঘ লাইন। এদিকে বিগত ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মহেশখালীর সন্তান চট্টগ্রাম কলেজের অনার্সের মেধাবী শিক্ষার্থী তোফায়েল’রও মৃত্যু হয় এই নৌপথে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ অক্টোবর ১৪ জন যাত্রী নিয়ে সোনাদিয়া চ্যানেলে একটি কাঠের বোট দূর্ঘটনায় পতিত হয়। তাদের মধ্যে অন্যান্যদের উদ্ধার করা গেলেও ১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এইভাবে কতজন মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছেন তার সঠিক হিসাবও নেই।
ইতোমধ্যে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে সেতু বাস্তবায়নের দাবীতে মহেশখালী ও কক্সবাজারে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহেশখালী বাসী মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী মুখ দিয়ে যা ঘোষণা করেন তা বাস্তবায়ন হয়। যেমনটি, পদ্মা সেতু নিয়ে অনেকে অনীহা দেখিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে। ঠিক তাই শেখ হাসিনার ঘোষণা মতে পদ্মা সেতুর কাজ যথাসময়ে শুরু হয়ে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হতে চলেছে।