মহেশখালী প্রতিনিধি:
ঘরে বসে চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হচ্ছেন মহেশখালীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা। যার কারণে হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের ভীড় বাড়ছেনা। তবে বেড়েছে মোবাইলে চিকিৎসা নেয়া রোগীর হার। মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও রোগীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহেশখালীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে অনেকেই স্বেচ্ছায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাচ্ছেন না। তাদের মধ্যে কেউ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়ে, আবার কেউ মোবাইল ফোনে এবং ফেসবুকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অনেকে বাজারে ঘুরাফেরা করলেও সচেতনরা বাসায় কোয়ারান্টাইনে থাকছেন। মূলতঃ সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়, অজ্ঞতা, সাধারণ সর্দি-কাশি মনে করে সাধারণ মানুষ করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
বড়মহেশখালী নতুনবাজারের পল্লী চিকিৎসক সিরাজুল হক জানান, করোনাকালীন সময়ে তার কাছে জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে প্রচুর রোগী এসেছে। তাদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পরামর্শ দিলে বেশির ভাগই অনীহা প্রকাশ করে। অনেকে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মানতে চাননা। আবার অনেকে সামাজিক ভাবে হেয় হওয়ার ভয় পান এবং তাদের মধ্যে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব আছে।
স্বাস্থ্যকর্মী মনির বিন সোলতান, নুরুল আলম হেলালী ও ইব্রাহীমের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাতে জনসাধারণের মাঝে যে উৎসাহ ছিল তা অনেকটা কমে এসেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে করোনা পজেটিভ রোগী, তার পরিবার ও স্বজনদের সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করাকেই চিহ্নিত করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব মেনে না চলায় মহেশখালীতে সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাসটি প্রচুর পরিমাণে ছড়িয়েছে বলে মনে হয়। তবে এখনো করোনা ভাইরাসের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থতার হার বেশি হওয়ায় বেড়েছে মানুষের আত্মবিশ্বাস। এর কারণে ঘরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গের অনেক রোগী।
হাবিবুর রহমান ও বোরহান উদ্দিন জানান- তাদের জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিলে তারা মোবাইল ফোনে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকেন এবং সুস্থ হয়ে যান। বাড়িতে নিয়মিত গরম পানির সাথে লেবুর রস, আদা, রং চা খেয়েছেন বলেও জানান।
অপরদিকে চিকিৎসকের দেয়া ওষুধ ও নির্দেশনা মেনে বাসায় আইসোলেশনে থেকে সুস্থ হয়েছেন বলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মহিউদ্দীন জানান।
মহেশখালীতে মোট ১৩৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০৪ জন। বাকিদের ৬ জন লিডারশীপ আইসোলেশন সেন্টারে এবং ২৯ জন ঘরে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শান্তনু ঘোষ।
তিনি আরো জানান, আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নিয়োজিত আছেন এবং ঘরে আইসোলেশনে থাকা রোগীদের নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়া হয়। তাদের মধ্যে জঠিল কোন রোগী নেই।
বাংলাদেশ সময় ১৪২৯ ঘণ্টা, ৮ জুলাই ২০২০
এসএমআর/আএন