এম.এ আজিজ রাসেল: করোনাকালে কক্সবাজার শহরের কতিপয় বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়া দিতে না পারায় ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে বাড়ি মালিকরা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে আদায় করছে ভাড়া। একই সাথে আটকে রাখা হচ্ছে ঘরের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। ফলে স্বর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে ওইসব ভাড়াটিয়াদের।
গত ৪ মাস ধরে করোনায় কাবু হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনীতি। এতে কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। সংসারের দৈনন্দিন খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কোন মতে জীবন সংগ্রামে বেঁচে আছে বেকার হওয়া মানুষ।
এই দুর্দিনে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ভাড়া নিয়ে বসবাস করা মানুষগুলো। কর্মহীন হয়ে তাদের সময় কাটছে নিদারুণ কষ্টে। পরিবারের খরচ জোগাড় করা হচ্ছে কোনমতে।
কিন্তু মাস শেষ হলেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা ভর করে তাদের। শহরের কিছু বাড়ির মালিক পরিস্থিতি বুঝলেও অধিকাংশই নির্দয় আচরণ করছে বলে জানা গেছে। ওইসব বাড়ির মালিক করোনা বা কর্মহীন হওয়ার বিষয় কিছুই বুঝতে চায় না। তাদের দাবি মাস শেষ হলেই ভাড়া দিয়ে দিতে হবে। নতুবা ছাড়তে হবে বাড়ি। আর ভাড়া দিতে না পারলে জোরপূর্বক ভাড়াটিয়ার স্বর্ণালংকার, আসববাপত্রসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। লাইট হাউজ, কলাতলী, বার্মিজ মার্কেট, টেকপাড়া, বড় বাজার, বাজারঘাটা, সিকদার মহল, কালুরদোকান, পাহাড়তলী, তারাবনিয়ারছড়া ও বাহারছড়া এলাকায় এমন অমানবিক ঘটনা ঘটছে নিত্ত নৈমত্তিক।
বার্মিজ মার্কেট এলাকার কিছু ভাড়াটিয়া বলেন, এখানকার অধিকাংশ ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিকদের হাতে নিগৃহিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিয়মিত ভাড়া না দিলে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। যারা ভাড়া দিতে পারছেন না তাদের কাছ থেকে জোর করে মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রেখে ভাড়া আদায় করছে মালিকরা। বিনা কারণেই বৃদ্ধি করা হচ্ছে বাড়ি ভাড়া।
বার্মিজ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, করোনাকালে সবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সিকদার মহলের সামনে মায়াবী টাওয়ার, ছমরাজ বিল্ডিং, পশ্চিম টেকপাড়ার ফয়সাল ম্যানশনসহ কয়েকটি বিল্ডিং মালিকের অমানবিক আচরণে সর্বশান্ত হচ্ছে এখানকার ব্যবসায়ীরা। বাড়ি মালিকদের এমন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
বৃহত্তর বার্মিজ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুছা কলিম উল্লাহ বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ পর্যটন নির্ভর ব্যবসায় জড়িত। করোনা ভাইরাসের কারণে কক্সবাজারে পর্যটক আসছে না। বন্ধ সকল পর্যটন কেন্দ্র। ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। এই অবস্থায় কতিপয় বাড়ির মালিক যেনতেন আচরণ করছে ভাড়াটিয়াদের সাথে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।