• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

বদর মোকামের পাশে সরকারি সাইনবোর্ড ভেঙে জমি দখল

নিজস্ব প্রতিদেক / ১৭২৬ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক:

২০১৭ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে শহরের বদরমোকাম মসজিদের উত্তর পাশে কস্তুরাঘাটের পশ্চিমপাশে প্রায় দুই একর খাস জমি দখলমুক্ত করেছিল। জেলা প্রশাসনের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত নদী শ্রেণির জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

দুই মাসের ব্যবধানে তিন দফা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমিটি দখলমুক্ত করেছিলেন তৎকালিন সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)।

উচ্ছেদের পর ওই জমিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে সাইনবোর্ড লাগিয়ে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই সাইনবোর্ডে লেখা ছিল ‘সরকারি নৌযান মেরামত কারখানা নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান’ ইহা সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি সম্পত্তি। এই জমিতে যেকোন প্রকার অবৈধ দখল ও অনুপ্রবেশ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

অভিযানের সময় ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধভাবে নির্মিত কয়েকটি কলোনী ও দোকান উচ্ছেদ করলেও একটি কাঠের ঘর উচ্ছেদ করেনি। কিন্তু ওই কাঠের ঘরটি সিলগালা করা হয়েছিল। সিলগালা করার পর সরকারি এই জমি দখলকারী বদরমোকাম এলাকার মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আবদুল হান্নান একটি সরকারি স্ট্যাম্পে মুচলেকাও দিয়েছিল এসিল্যান্ড বরাবরে।

মো. আবদুল হান্নানের মুচলেকায় লেখা হয়েছিল “আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী এই মর্মে মুচলেকা সম্পাদন করছি যে, কক্সবাজার মৌজার কস্তুরাঘাট ও বদরমোকাম মসজিদ সংলগ্ন ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে যে সকল অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছি সে সব অবৈধ স্থাপনা আগামী ০৬/২/২০১৭ সালের দুপুর ১২ টার মধ্যে সরিয়ে নিব”। নিবেদক মো. আবদুল হান্নান। পিতা- মৃত হাজী নুরুল ইসলাম। সাং-বদর মোকাম মসজিদ, ৩নং ওয়ার্ড কক্সবাজার পৌরসভা, সদর, কক্সবাজার।

অভিযোগ উঠেছে, মুচলেকা দেওয়ার প্রায় তিন বছর কাছাকাছি হলেও এখনো সেই কাঠের ঘরসহ কোন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং নতুন করে গত দুই বছরে সেই সরকারি জমিতে উঠেছে বহু স্থাপনা। সরকারি জমি দখলদার আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে ফের সেখানে কলোনী ও ভাড়া বাসা নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ২০টির অধিক। এমনকি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাগানো সাইনবোর্ড এবং লাল পতাকার অস্থিত্বও নেই এখন। দখলকারীরা এসব উপড়ে ফেলে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। বর্তমানে এসব সরকারি জমি বিক্রি ও ঘর তৈরি করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। অভিযানের পর প্রশাসন পক্ষ থেকে আর কোনো ফলোআপ না থাকায় দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।

অভিযানের সময় অংশ নেয়া কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারী জানিয়েছেন, যখন পঙ্কজ বড়ুয়া সদর এসিল্যান্ড হিসেবে ছিলেন, তখন একবার অভিযান চালিয়ে ওই সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছিল। এর কিছু দিন পর পঙ্কজ বড়ুয়া বদলি হয়ে যান। নতুন এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দীন যোগদানের কয়েক মাসের মাথায় সেখানে দুই দফা অভিযান চালানো হয়।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরের শেষে অভিযান চালিয়ে ১০টি মতো অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করেছিল এবং কাঠের একটি বাড়ি সীলগালা করা হয়েছিল। উচ্ছেদের পরপরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড ও লাল পতাকা দিয়ে সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সময় সরকারি জমি দখলদার হান্নান নিজেই কাঠের ঘরটি সরিয়ে নিবে মর্মে সময় চেয়েছিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে। ম্যাজিস্ট্রেট তাকে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে মুচলেকাও নিয়েছিল। কিন্তু মুচলেকা দেওয়ার পর সেখানে আর কোনো অভিযান হয়নি। বরং উচ্ছেদ করা সরকারি জমিটি পূণরায় স্থায়ীভাবে দখল হয়ে গেছে। প্রশাসনের দেয়া সাইনবোর্ড ও লাল পতাকাও নেই এখন। যেখানে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল ওই জায়গায় এখন অবৈধভাবে ঘর তৈরি করা হয়েছে।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মোক্তার বলেন, আগের অভিযানের বিষয় ও মুচলেকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া দ্রুত ওই জায়গা পরিদর্শন করা হবে। যদি সরকারি খাস জমি হয় আর উচ্ছেদের জায়গায় নতুন করে স্থাপনা নির্মিত হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, নদীর জমি হয়ে থাকে আর অতীতে যদি সেখানে উচ্ছেদ হয়ে থাকে তাহলে নতুন করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। হয়ত প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যস্ততার ফাঁকে উচ্ছেদ হওয়া সরকারি জমিতে আবার স্থাপনা নির্মাণ করেছে দখলকারীরা। কিন্তু প্রশাসন আবার অভিযান চালিয়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করবে এবং দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন