• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

প্রতিদিন দখল হচ্ছে সড়ক ও জনপথের জমি, নীরব কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিদেক / ৯৫০ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

শাহীন রাসেল:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জায়গা বেদখলের হিড়িক পড়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সময়ের চাহিদা চিন্তা করে ভবিষ্যতে যাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক প্রশস্ত করা যায়, তার জন্য এই সড়কগুলোর দুই পাশে অন্তত ৩০ ফুট করে জমি অধিগ্রহণ করেছে।

কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়মিত তদারকি না থাকার সুযোগে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের অনেকে যে যেভাবে পারছে, সড়কের ফুটপাতসহ সওজের অধিকৃত জায়গা দখল করে সেখানে দোকানপাট, বিভিন্ন সংগঠনের নামে অফিস ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করছে।

জনসংখ্যা হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে যান ও পরিবহন। সমাজের প্রভাবশালীরা পেশিশক্তির বলে এবং রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে নানা ধরনের বিপণিবিতান, দোকানপাট, প্রসাধনীর মার্কেট ও বহুতল ভবন। ফলে রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ব্যাপক প্রাণ ও সম্পদহানি হচ্ছে। এরপরও সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় কয়েকশ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি সরকারের বেহাত হয়ে গেছে।

টেকনাফ থেকে লিংকরোড, সদরের ঈদগাও থেকে শহরের ঝাউতলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সওজের জায়গা ক্রমশ বেদখল হয়ে গেলেও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের কুম্ভুকর্ণের ঘুম যেন ভাংছেই না।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, টেকনাফ পৌরসভা, উখিয়া, কোটবাজার, মরিচ্যা, সদরের ঈদগাও, পানিরছড়া বাজার, জোয়ারিয়ানালা, চা বাগান, বাইপাস, তেচ্ছিপুল, কলঘর বাজার, খরুলিয়া বাজার, বাংলা বাজার, লিংকরোডসহ উন্নয়ন কতৃপক্ষের টার্মিনাল থেকে শহরের ঝাউতলা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের জায়গা বেদখলের হিড়িক পড়েছে।

সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারী দলের প্রভাবশালী মহল প্রায় জায়গা দখল করে সেখানে অসংখ্য পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অংকের টাকায় ভাড়া দেয়া হচ্ছে।

সড়কের ফুটপাতগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এসব দখলদারী চক্রের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সওজ কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ, যান ও পরিবহনচালকরা অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ, টেকনাফ-লিংকরোড সড়কের কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত ভূমির ওপর বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে অধিগ্রহণের পরই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসচালক বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সওজ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে টেকনাফ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সড়কের পাশের সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সওজের রাস্তা ও জমি দখল করে গড়ে ওঠা দোকানের পাশাপাশি ইট-বালু, খোয়া রেখে দখল করা হয়েছে সড়কের জায়গা। দখলদারদের ক্ষমতার দাপটের কাছে অনেকটাই অসহায় সওজের কর্মকর্তারা। অনেক স্থানে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তা দখল করে বীরদর্পে চলে ব্যবসা-বাণিজ্য। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পার্ক করে রাখা অটোবাইকের লম্বা লাইনের কারণে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। দখলদারদের ক্ষমতার দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকসহ কয়েকজন অবৈধ দখলদার ব্যবসায়ী জানান, সরকারি জমি পড়ে থাকে। এ কারণে দোকানপাট তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ভেঙে দিলেও আবার দখল করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেন। তবে কর্তৃপক্ষ না চাইলে তারা দোকান তুলে নেবেন বলে জানান। বাস ও মাইক্রোবাস চালকরা জানান, রাস্তার কয়েক ফুটসহ জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় অনেক স্থানে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এতে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাস্তার দু’পাশ দখলমুক্ত থাকলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা সড়কের বিভিন্ন স্থান বেদখলের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার হাতে তো ম্যাজিস্ট্রেটি পাওয়ার নেই। চাইলেও সহজে অনেক কিছু করতে পারিনা। তাছাড়া এটার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হয়। যখন আমাদের জমি দরকার হবে তখন এইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেবো। এর আগে তাদের ডিস্টার্ব করবেন না বলে জানান এই কর্মকর্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন