এম.এ আজিজ রাসেল:
জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নির্মিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ কক্সবাজারের খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে জীবন যাপন করবেন। তাই তারই আদর্শে মানুষের সেবাই আমার মূল লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকীতে দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। যার অংশ হিসেবে অসহায় দরিদ্রদের বাড়ি ও জমি দেয়া হচ্ছে। দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার”।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “কক্সবাজার হচ্ছে আমাদের একটা পর্যটন এলাকা। আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে কক্সবাজারকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই একটা পর্যটন শহর হিসেবে। এখানে হাজারো কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ চলছে। আগে এখানকার মানুষের জীবিকা ছিল চিংড়ি ও লবণ। কিন্তু এখন বহুমুখী জীবিকার উৎস সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চলও করে দিব”
তিনি বলেন, “আমাদের সমুদ্র সৈকত বিশ্বের মধ্যে সব থেকে লম্বা। এত দীর্ঘ এবং এমন বালুকাময় সৈকত পৃথিবীতে আর নেই। কিন্তু পৃথিবীর আর কোনো দেশে নাই। তাই পর্যটন শিল্প বিকাশে কাজ করছে সরকার। এখানকার বিমানবন্দরটাকে আমরা এমনভাবে উন্নত করতে চাই যেখানে সারাবিশ্ব থেকে অনেকেই আসতে পারবে, যতবড় বিশাল বিমান হোক, নামতে পারবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপ দিতে আশপাশে বাস করা মানুষকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। খুরুশকুলে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের জায়গাটি আমি পছন্দ করেছি। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এখানে পৃথিবীর বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে।”
তিনি ফ্ল্যাট পাওয়া পরিবারগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা এতদিন যেভাবে ছিলেন কষ্টের মধ্যে আমি নিজে গিয়েছি, দেখেছি সেটা, এখন আপনারা সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনাদের ছেলে-মেয়েরাও বড় হবে, মানুষ হবে সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ব্যবস্থা নিয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যে ঘরবাড়িগুলো করে দেওয়া হল, মনে রাখবেন এটা আপনাদের নিজেরই। সেভাবে যতœ নিয়ে ব্যবহার করবেন। সুন্দরভাবে যাতে থাকে সেদিকে দেখবেন। আর এখানে নদীর কূল ধরে সবুজ বেষ্টনি করে দেওয়া হবে। কোনো রকম ঝড় জলোচ্ছাসে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আপনারাও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করবেন। পুকুর কেটে দেওয়া হয়েছে। আর তাছাড়া জীবন-জীবিকার সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দেব। সেভাবেই সবাইকে পুনর্বাসন করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে খেলার মাঠ, সবুজ জায়গা, মসজিদ, মন্দির, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন, তিনটি পুকুর, নদীতে দুটি জেটি, দুটি বিদ্যুতের সাবস্টেশন থাকবে এখানে। থাকবে দুটি অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।”
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান। এসময় ৩ জন উপকারভোগীদের কথা শুনেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ১৯ উপকারভোগীদের মাঝে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার প্রান্তে ছিলেন সাইমুম সরওয়া কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, জাফর আলম এমপি, শাহীন আক্তার এমপি, কানিজ ফাতেমা এমপি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ, প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন ও সাবেক সাংসদ এথিন রাখাইন।
বাংলাদেশ সময় ২০০৯ ঘণ্টা, ২৩ জুলাই ২০২০
আরএম/আএন