• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

ডিস ক্যাবলের আড়ালে বিদ্যুৎ চুরির মূলহোতা বিএনপি নেতা মুকুল

নিজস্ব প্রতিদেক / ৬০৩ বার ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি:

কক্সবাজার শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় তিনটি মার্কেট সহ ৩ শতাধিক দোকানে ডিস ক্যাবলে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে বেরিয়ে এসেছে আমিনুল ইসলাম মুকুল নামে এক বিএনপি নেতার নাম।

বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শহরের পুরাতন বাজার ও বড় বাজারের নুর মার্কেট, রাজ মুকুট মার্কেট ও আজিজিয়া সুপার মার্কেট সহ আশপাশের ৩ শতাধিক দোকান বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবহার করে আসছিল। এতে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ওইসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছেন তারা। বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি জেনারেটরের বিলও পরিশোধ করেন। কিন্তু কি কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ হঠাৎ তাদেরকে বিদ্যুৎ চুরির অপবাদ দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে সেটা বোধগম্য নয়।

ব্যবসায়ীদের এমন বক্তব্যের পর অনুসন্ধানে নামে ভয়েসওয়ার্ল্ড। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ডিস ক্যাবলে বিদ্যুৎ চুরির পিলে চমকানো তথ্য। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কাঞ্চন নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে আসেলও ভয়েসওয়ার্ল্ডের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে কাঞ্চনের নেপথ্যে থাকা মূলহোতা বিএনপির শ্রমিক দল নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুলের নাম।

শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলাম মুকুল জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবসা করেন। সরকারি বিদ্যুতে লোডশেডিং বা বন্ধের সময়ে ব্যবসায়ীরা মুকুলের জেনারেটরের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। প্রধান সড়কের উত্তরপাশে ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে শুরু করে চাল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ শতাধিক দোকান মুকুলের জেনারেটর থেকে সংযোগ নেয়।

প্রধান সড়কের উত্তরপাশের ওই লাইনে সরকারি বিদ্যুতের লোডশেডিং সময়ে জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও মুকুল সড়কের দক্ষিণ পাশের সরকারি লাইন থেকে চুরি করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ফলে জেনারেটর চালু করার দরকার পড়ে না। কোন ধরণের বিনিয়োগ বা খরচ ছাড়াই সরকারি বিদ্যুৎ চুরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

আমিনুল ইসলাম মুকুলের জেনারেটর দেখাশুনা করে কাঞ্চন নামে এক ব্যক্তি। কাঞ্চন একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। এক সময় বিদ্যুৎ অফিসে কাজ করতেন কাঞ্চন। মুকুলের হয়ে ডিস ক্যাবলের আড়ালে রাস্তার দক্ষিণপাশের সরকারি লাইন থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে কাঞ্চন।

জানা গেছে, টানা কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ চুরি করে আসছে মুকুল-কাঞ্চন সিন্ডিকেট। এর আগে বেশ কয়েকবার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে ধরা পড়ে কাঞ্চন। কিন্তু মুকুলের ভয়ে কেউ কাঞ্চনের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। কাঞ্চন-মুকুলের সিন্ডিকেটে বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় কর্মচারীরাও জড়িত আছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওইসব মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটগুলো এখনো বিদ্যুৎবিহীন। সংযোগ না পাওয়ায় দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা। ওইসব মার্কেটে যেসব স্বর্ণের দোকান রয়েছে সেগুলোর একটিও খুলেনি। ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবী জানান।

কিছু কিছু দোকান মালিকেরা জানান, তারা প্রতি মাসে বিল দিয়ে আসছে। কিভাবে অবৈধ সংযোগ হল বুঝতে পারছেন না। প্রতি মাসে টাকা পরিশোধ করার পরও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়ায় ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। তার উপর কোন অপরাধ না করে জরিমানা গুণতে হচ্ছে। মুকুলের জেনারেটর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার দাবী জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আমিনুল ইসলাম মুকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কয়েকবার রিং পড়লেও পরে মুঠোফোন বন্ধ করে দেন তিনি।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. হযরত আলী বলেন, কাঞ্চন সিন্ডিকেট কৌশলে ডিস ক্যাবলের আড়ালে ওইসব মার্কেটের দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের গণি বলেন, অভিযানে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ চোর চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শহরে এ ধরণের আর কোথায় কোথায় বিদ্যুৎ চোর চক্র রয়েছে তাদের সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে। তথ্য প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন