বিশেষ প্রতিবেদক:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন, সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) এর টানা ছুটি উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হয়। শেষদিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়োজন সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দেবী দুর্গার এ বিসর্জনে দেখা গেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহসব সম্প্রদায়ের মানুষকে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জল কর জানান, দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান এটি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছরও এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। গত বছর করোনা মহামারির কারণে এই উৎসবটি ব্যাপকভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। পূজাসহ টানা ছুটিতে অনেক পর্যটক এখন কক্সবাজারে।
এদিকে সাপ্তাহিক ও পূজার ছুটি এবার একই দিনে পড়েছে। তাই কেউ পূজা উপলক্ষে, কেউ সপ্তাহ শেষে অবসর কাটাতে জড়ো হয়েছেন সৈকতে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে পর্যটকের ঢল নামে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে। কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে হাজার হাজার পর্যটক দেখা গেছে।
শহরের বিভিন্ন রাস্তায়ও ভিড় রয়েছে। রীতিমতো দেখা দিয়েছে যানবাহন সংকট। গণপরিবহণগুলো পর্যটকদের রিজার্ভভাড়া ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ প্রতিনিয়ত।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা কয়েকদিনের ছুটিতে কয়েক শত কোটি ব্যবসা হতে পারে বলে আশা করছেন। পর্যটক আগমনে খুশি হোটেল ব্যবসায়ীরা।
হোটেল মোটেল মালিক সমিতি জানিয়েছেন, অক্টোবরের শুরু থেকে পর্যটক আগমণ ভালো দেখা দিয়েছে। সব হোটেলে প্রায় বুকিং হয়েছে। যেহেতু পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে তাই এখন ভীড় হবে।
কক্সবাজার শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাছির উদ্দীন জানান, সকাল থেকে পর্যটকের সমাগম দেখা যাচ্ছে। অন্যদিনের চেয়ে বুধবার পর্যটকের চাপ বেশি। আশা করি এই চাপ আগামী ছুটিরদিন পর্যন্ত থাকবে।
ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি রেজাউল করিম জানান, টানা কয়েকদিনের ছুটিতে লাখো পর্যটকের সমাগম এটা প্রতিবছর হয়। তবে এবার পূজার বন্ধ একসাথে হওয়ায় আরো বেশি আসছে মানুষ।
তিনি সেন্টমার্টিন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে বলেন, প্রতিবছর সহজে অল্পখরচে পর্যটকরা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যায় কিন্তু এবছর একটি চক্রের হাতে জীম্মি হয়ে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন যেতে পারবে না।
ঢাকার সাভার থেকে বেড়াতে আসা মনজুর-আফ্রিন দম্পতি জানান, বিয়ের পর কক্সবাজাওে প্রথম আসছি। আসলে প্রাণ প্রকৃতি ও আল্লাহর অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করতে সমুদ্র শহরে আসা দরকার। তবে তারা পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য তদারকি করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
পাঁচ তারকামানের হোটেল কক্স-ঢুডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবু তালেব জানান, দূর্গাপূজা ও সরকারী ছুটির কারনে কক্সবাজারে অনেক ভিআইপিরা এসেছেন। হোটেলে অনেক আগে থেকে প্রায় রুম বুকিং ছিল। সামনেও ভালো পর্যটক আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বিশ্ববাসীর নানারবাড়ি কক্সবাজারে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ প্রচুর আসছে। আগামী নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছুটি ছাড়াও প্রচুর পর্যটক আসবে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মো: মুজিবুর রহমান বলেন, টানা কয়েকদিনের ছুটিতে ৩ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যটদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো: জিল্লুর রহমান বরেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় প্রস্তুত। প্রতিটি পয়েন্টে সাদা পোশাকে কাজ করছে পুলিশ। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ট্যুরিষ্ট পুলিশের হেল্প ডেক্স বসানো হয়েছে। কোন মানুষ যাতে হয়রানী না হয় সেটাই পুলিশ বাহিনীর লক্ষ্য।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট ৫ দিনের ছুটি উপলক্ষে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। এছাড়া ছুটি না হলেও পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে হাজার হাজার পর্যটক আসবে।