• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

চলাচল উপযোগী নেই পর্যটন নগরীর একটি সড়কও

নিজস্ব প্রতিদেক / ৪৬৪ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০
কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের বার্মিজ মার্কেট এলাকার দৃশ্য।

বিশেষ প্রতিনিধি:

সড়কের বোবা কান্না শোনার যেন কেউ নেই। এক প্রকার অভিভাবকহীন পড়ে আছে পর্যটন শহরের সড়ক-উপসড়ক। ভঙ্গুর সড়ক দিয়ে যান ও জন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি লক্কর ঝক্কর সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

শহরের হাসপাতাল সংলগ্ন স্টেডিয়াম সড়কের দৃশ্য।

এছাড়া সড়কগুলো ভাঙাচোরা এবং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে। নালা-নর্দমা ভরাটের কারণে এবং অনেক সড়কে নর্দমা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারের সড়ক-উপসড়ক।

প্রধান সড়কের বাস টার্মিনাল থেকে, আলির জাহাল, রুমালিয়ারছড়া, খুরুস্কুল রাস্তার মাথা, তারাবনিয়ার ছড়া, কালুর দোকান, বার্মিজ মার্কেট, বাজারঘাটা থেকে হলিডের মোড় পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে খানা খন্দক ও অগণিত গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যান।

বার্মিজ স্কুল সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সড়ক নয়, যেন পুকুরে পরিণত হয়েছে।

জশহরের অভ্যন্তরীণ সড়কের অবস্থা আরও নাজুক। হাসপাতাল সড়ক, স্টেডিয়াম রোড, গোলদিঘির পাড়, টেকপাড়া, বড়বাজার, সরকারি বালক-বালিকা রোড, সার্কিট হাউজ রোড, প্রেস ক্লাব রোড ও জেলা পরিষদ সড়কের শোচনীয় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কগুলোতে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে।

বার্মিজ স্কুল রোডের সড়ক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। কার্পেটিং উঠে গিয়ে মুছে গেছে সড়কের চিহ্ন। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। দেখলে মনে হয় এখানে সড়ক ছিল অর্ধশত বছর আগে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এতে সীমাহীন কষ্ট নিয়ে করতে হয় চলাচল।
শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক হাসপাতাল সড়ক, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও স্টেডিয়াম সড়ক নিয়ে দুঃখ শেষ নেই পথচারীদের। খানাখন্দকে মুছে গেছে সড়কের চিহ্ন। ছোট-বড় গর্ত বৃষ্টি হলে পরিণত হয় মিনি সুইমিংপুলে। এতে চলাচল করতে গিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে চালকেরা।

গোলদিঘির পাড় এলাকার ব্যবসায়ী দিপু দাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখান সড়কের অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে পৌছেছে। এতে চলাচলে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুছা কলিম উল্লাহ বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার মধ্যে ৪নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। পৌরসভার ভোটের পর এখানে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। সব গলি-উপগলি চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নালার পানি উঠে আসে রাস্তায়। পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে দিন দিন সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে বৃহত্তর এই এলাকা।

সরকারি বালিকা, স্টেডিয়াম ও হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ীরা বলেন, শহরের মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা। এখানে স্কুল, হাসপাতাল, অফিস ও আদালত রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সড়ক দিয়ে চলাচলা করে। কিন্তু সড়কের দৃশ্য দেখলে মনে হবে অজপাড়া গা। ভাল করে আধা কিলোমিটার সড়কও ঠিক নেই। এক হাত দূরত্বের মধ্যেও ভাল নেই সড়ক। সড়কের বুক চিরে বড় বড় গর্তে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। রোগীদের হাসপাতালে আসতে চরম কষ্ট পেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শহরের প্রধান সড়কের হলিডে মোড় বাস টার্মিনাল হয়ে হলিডের মোড় পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল সড়ক জনপথ বিভাগের। ২০১৮ সালে যা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে কউক এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। মাঝেমধ্যে সড়কের সামান্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপালন করতে দেখা গেলেও পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার কাজ না করায় ঠিকছে না সড়কের স্থায়ীত্ব। প্রধান সড়কের উন্নয়নে গৃহিত প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ চলতি বছরের প্রথম দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কউক এখনো পর্যন্ত কার্যত আগাতে পারেনি। কবে নাগাদ শুরু হবে সেটা নিয়ে সাধারণ মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হচ্ছে। কউক দায়িত্ব নেয়ার পর প্রধান সড়ক কয়েক দফায় সংস্কার করা হয়। শীঘ্রই পুরোদমে প্রধান সড়কের কাজ শুরু করা হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সংলগ্ন স্টেডিয়াম সড়কের এই অংশে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যানবাহন।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার কিছু চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। তিনি শনিবার বাহারছড়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণের একটি অনুষ্ঠানে বলেন, কক্সবাজার পৌরসভায় জনসংখ্যা বেড়েছে, বর্ধিত হয়েছে পৌরসভা। কিন্তু সেই অনুপাতে পৌরসভায় জনবল বাড়েনি, বাড়েনি কোনো সুযোগ-সুবিধাও। পৌরসভার ওপর জনগণের নানাভাবে চাপ বেড়েছে। চাপ পড়েছে সড়ক ও নালার উপর। এসব সমস্যা সমাধানে এখনো সরকারি কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। নাগরিকদের কর বাড়ানো হয়নি। সীমিত আয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। একটি সড়কও ভাঙ্গা থাকবে না। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সকল সড়কের সংস্কার করা হবে। এক বছরের মধ্যে পাল্টে যাবে পর্যটন শহরের চেহারা।

বাংলাদেশ সময় ১৭৩০ ঘণ্টা, ৫ জুলাই, ২০২০

এআর/এএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন