পেকুয়া প্রতিনিধি:
মহামারি করোনার এই অর্থনৈতিক সংকটে মানুষ যখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই অবস্থায় কুতুবদিয়ার সাধারণ মানুষ ঘাট পারাপারে জিম্মি হয়ে আছে ইজারাদারের কাছে। পারাপারে উপজেলা প্রশাসনের কোন নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছে মতো বোট ভাড়া। সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে পার হচ্ছে যাত্রী সাধারণ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুতুবদিয়া যেতে বড়ঘোপ ও দরবার দুইটি ঘাট রয়েছ। করোনাকালীন ঘাটগুলো থেকে ২টি বোট চলাচল করছে। মগনামা থেকে কুতুবদিয়া যেতে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা। তবে বর্তমানে সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধঙ্গুলী দেখিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এ নিয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পায়নি। ইজারদারদের হাতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছে যাত্রীরা।
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফজল করিম বলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যাওয়ায় বোট নিয়ে যেতে ১২শ’ টাকা ভাড়া গুণতে হয়। করোনাকালে তার মতো দিনমজুরের পক্ষে ১২শ’ টাকা অনেক বড় ধাক্কা। ইজারাদারেরা রীতিমত ডাকাতি করছে।
কুতুবদিয়া দরবার ঘাট দিয়ে পার হওয়া ছেনুয়ারা নামের এক মহিলা বলেন, তার পিতা অসুস্থ থাকায় পেকুয়া থেকে কুতুবদিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বোটে আরোহণ করেন। মাঝপথে ভাড়া দাবি করা হয় জনপ্রতি ২শ’ টাকা। ২০ টাকার ভাড়া কেন ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়। পরে কথা না বাড়িয়ে দাবিকৃত টাকা দিতে বাধ্য হন তিনি।
মো. তারেক নামের বড়ঘোপ ঘাটের এক মাঝি বলেন, কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন জরুরীভাবে ঘাট পারাপারের ভাড়া ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সংকটে বোট চালাতে হচ্ছে। কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে মিলছে না আশানুরূপ টাকা।
অভিযোগের বিষয়ে দরবার ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলনে, উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে সামাজিক দুরত্ব মেনে বোট চলাচল করছে। বোটে ৫ জনের অধিক যাত্রী না নিতে বলা হয়েছে। ২শ’ টাকা ভাড়া নিয়েও খরচ পোষানো সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রী ১৫-২০ জন নেয়ার অনুমতি দিলে ৭০-৮০ টাকা ভাড়া নিয়ে পোষানো সম্ভব।
একই অভিমত প্রকাশ করলেন বড়ঘোপ ঘাটের ইজারাদার আবুল কালাম আজাদ।
বাংলাদেশ সময় ১৬০৮ ঘণ্টা, ৮ জুলাই ২০২০
এইচইউ/আএন