অবশেষে পর্যটন নগরী কক্সবাজার থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেল প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এক হাজার ২০ জন যাত্রী নিয়ে পর্যটন এলাকা থেকে ছাড়ে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’।
প্রথম ট্রেন যাত্রার সাক্ষি হতে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ব্যস্ততা বাড়ে কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে। কড়া নিরাপত্তার মাঝে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের যাত্রীদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করে নেয় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সময় প্লাটফর্মে জড়ো হন স্থানীয়রাও।
কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা সৌরভ বলেন- ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার আসব বা বাড়ি ফিরব কখনো চিন্তা করেনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছি। আমার পুরো পরিবার প্রথম ট্রেনের যাত্রী হিসেবে আজ সাক্ষি। ঢাকার উদ্দেশে আমরা রওনা দিলাম।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, বাণিজ্যিকভাবে রেল চালু হওয়ায় কক্সবাজারে আগের তুলনায় দুই-তিন গুণ পর্যটক বাড়বে। এতে আরো সমৃদ্ধ হবে পর্যটন শিল্প। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপদে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম কাজ করবে। টহল টিমের পাশাপাশি থাকবে স্পেশাল ফোর্স। এছাড়া পর্যটকদের সুবিধার্থে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, জরুরি সেবা ও হটলাইন।
তারকা মানের হোটেল কক্স-টুডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবু তালেব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বদন্যতায় কক্সবাজারবাসীর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। রেল চালুর মধ্য দিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করল কক্সবাজার। এখন থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি এই রেল ঘিরে কক্সবাজারসহ দেশের অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটবে।
শুক্রবার কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশন থেকে প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা পরিদর্শনে আসেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন- প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাণিজ্যিকভাবে রেল চলাচল শুরু হলো। আন্তঃনগর এই ট্রেন ২০টি বগি নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকা ও ঢাকা থেকে কক্সবাজার চলাচল করবে। চাহিদা বাড়লে বগিও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান ট্রেনটিতে কোনো কেবিন সুবিধা নেই। এসি শোভন কোচে চেয়ার থাকবে পর্যাপ্ত। জানুয়ারি থেকে আরো কয়েকটি ট্রেন চালু হবে। তবে আপাতত লোকাল ট্রেন চালু হচ্ছে না।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারি ট্রেন কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১০ দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার এক্সপ্রেসের কোনো টিকিট নাই। সব বিক্রি হয়ে গেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস দুপুর সাড়ে ১২টায় ছেড়ে চট্টগ্রামে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে এবং ঢাকায় পৌঁছবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে। সব মিলিয়ে সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া এক হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিটের এক হাজার ৫৯০ টাকা ও এসি বার্থের ভাড়া দুই হাজার ৩৮০ টাকা।
গত ১১ নভেম্বর কক্সবাজারের আইকনিক রেল স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার-দোহাজারি রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।