ভুয়া প্যাড, সীল, স্বাক্ষর, নাম ও পদবী সৃজন করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করে জেনে শুনে আদালতের বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার অভিযোগে আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৩ মে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শফি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন যথাক্রমে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মধ্যম নয়াপাড়ার ছৈয়দ নুরের পুত্র দেলোয়ার হোসাইন, একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নয়াপাড়া বাংলাবাজারের নুরুল কবিরের পুত্র সহিদুল ইসলাম, মাস্টার হামিদুল হকের পুত্র আইনজীবী সহকারী মোজাম্মেল হক মামুন ও কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। এছাড়া মামলায় কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,’মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ তবে মামলার বাদি ও কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শফি জানান, মামলায় আইনজীবী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জামিনে এবং আইনজীবী সহকারী মোজাম্মেল হক মামুন কারাগারে আছেন। এছাড়া বাকি আসামিরা পলাতক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘একটি গাড়ি জিম্মা নেয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তবে এটিতে আমি জামিনে আছি।’ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর সহিদুল ইসলাম ও তার পিতা নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারী রক্ষিত বনে প্রবেশ, পাহাড়ের বালি মাটি কেটে ভূমিরূপ বৈচিত্র্য পরিবর্তন ,পাচার, বন ও পরিবেশের ক্ষতি সাধন জনিত অপরাধ সংঘটনের দায়ে একটি বন মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- ৫ এ বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে গাড়ির মালিক দোলায়ার হোসাইন গাড়িটি জিম্মার আবেদন করলে তা নিম্ন আদালতে না মঞ্জুর হওয়ায় হাইকোর্টে গাড়ি জিম্মার আবেদন করেন। ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর উক্ত মামলাটি নিষ্পত্তি পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান সাপেক্ষে দেলোয়ার হোসাইনের অনুকূলে ডাম্প ট্রাকটি জিম্মা প্রদানের আদেশ দেন হাইকোর্ট। তৎ প্রেক্ষিতে দেলোয়ার হোসাইন ও শহিদুল ইসলাম আইনজীবী সহকারী মোজাম্মেল হক মামুনের সহায়তায় কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্য আইনজীবী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিনের স্বাক্ষরে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দেলোয়ারের পক্ষে ৫ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি আদালতে দাখিল করেন।
এর প্রেক্ষিতে গাড়িটি আবেদনকারীর অনুকূলে জিম্মা এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা স্থিত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারকে নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেখতে পান আদালতে দাখিল করা ব্যাংক গ্যারান্টি তাদের নয় এবং ব্যাংক গ্যারান্টিতে যে প্যাড, সীল, স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে তা ভুয়া ও জাল-জালিয়াতিতে ভরা।
এ অবস্থায় বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আদালত এ বিষয়ে আসামি, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীকে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দেন। আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও আসামিরা আদালতে পৃথক ব্যাখ্যা এবং জবানবন্দি দাখিল করেন। আদালত ব্যাখ্যা ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করে উল্লেখিত আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরষ্পরের যোগসাজশে জেনে শুনে আদালতের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য মিথ্যা, জাল-জালিয়াতি, ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি আদালতে দাখিল করে গুরুতর অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।