শাহিদ মোস্তফা, ঈদগাঁও:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় কোনো ভাবেই থামছে না গরু মহিষ লুটের ঘটনা। সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী গরু মহিষ লুটকারীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে নতুন উপজেলার ৫ ইউনিয়নের দেড় লক্ষধিক জনগনের ২০ হাজারও অধিক গরুর মালিক, গৃহস্থ, ব্যবসায়ী, খামারীরা। ফলে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে এখানকার গরু মহিষ মালিকরা।
প্রতিদিন গভীর রাতে কোনো না কোনো ইউনিয়নে অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ গরু মহিষ লুটকারীরা হানা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার গরু মহিষ। চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিহ্নিত করতে না পারায় ভুক্তভোগীরা আইনী সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছে না। স্থানীয় চোরদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও আন্তঃ চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও থানায় দায়ের হয়নি দেড় বছরে। রাতের বেলায় পুলিশি টহল থাকলেও চোর চক্রের সদস্যরা একাধিক সড়ক, উপ-সড়ক ব্যবহার করায় আটক করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।
এই গরু মহিষ লুটে ব্যবহার করা হচ্ছে ডাম্পার, হাইয়েস, ছাঁরপোকা, মিনি ডাম্পার স্থানীয় ভাষায় গরু চুরির গাড়ী। ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঐ সব পরিবহনের কোনো লাইসেন্স নেই। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা,জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সাথে যোগসাজশ করে অবৈধ যানবাহন গুলো চলাচল করে থাকে। এদিকে দফায় দফায় গরু মহিষ লুট হওয়ায় রাতের বেলায় পুলিশ টহল আরো জোরদারসহ সড়ক উপ-সড়ক গুলোতে বাঁশকল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি ঈদগাঁও ইউনিয়নের কালির ছড়া ও মেহের ঘোনা এলাকা থেকে কয়েকটি গরু লুট হয়।
অনুরূপ ভাবে ৮ জানুয়ারি ভোরে উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ইছাখালী এলাকায় ছৈয়দ নুর মেম্বারের খামার সংলগ্ন হনছু ঘোনা নামক এলাকার শেখ আহমেদের গোয়াল ঘরে হানা দিয়ে বাছুরসহ একটি উন্নত মানের গাভী নিয়ে হাইয়েস মাইক্রো বাস যোগে পালিয়ে যায় চোরের দল। গৃহস্থ শেখ আহমেদের স্বজনদের শোর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ওই চোরের দল অস্ত্র উঁচিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা৷
তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ইসলামপুর সড়ক দিয়ে আসার পরপরই অন্য সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায়। চোরের উপদ্রব না কমায় ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয়দের। এদিকে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল হালিম জানিয়েছেন′′,, পোকখালীর বিষয়টি খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবরও নেওয়া হয়েছে।
তিনিও আরো বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা পেলে বাঁশকল স্থাপনের জন্য থানা পুলিশ সবসময় বদ্ধপরিকর। গ্রাম পুলিশ, জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিলেও পরে আর সহযোগিতা করে না। তিনি গরু মহিষ লুট ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, জনবল, যানবাহন সংকট থাকায় থানা পুলিশও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। যে একটি গাড়ী ছিল সেটিও বিশেষ প্রয়োজনে পুলিশ লাইনে নিয়ে গেছে। ভৌগোলিক ভাবে উপজেলাটি বড় হওয়ায় অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সময় লেগে যায়। নতুন থানা হিসেবে পুলিশ জনগণকে যে নাগরিক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা তাও দিতে পারছে না। স্থানীয়রা থানায় জনবল ও যানবাহন বাড়াতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।