বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজার শহরের ৫নং ওয়ার্ড পশ্চিম চৌধুরী পাড়াস্থ ফরেস্ট অফিসের পিছনে জাফর আলমের ছেলে আশরাফ আলী ওরফে আশু আলী। তার বতর্মান বয়স প্রায় ২৪ বছর। বয়স যখন ১৬ ছিল তখন থেকেই আমিন খান (বন্দুকযুদ্ধে নিহত) গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ছিনতাই করত বিজিবি ক্যাম্প এলাকা কেন্দ্রিক। আমির খানের ছিল প্রায় ১২ জনের একটি ছিনতাইকারী গ্রুপ। এমনকি আমির খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবেও কাজ করত আশু আলী। ২০১৯ সালের দিকে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান আমিন খান। আমির খান মারা যাওয়ার পর পুরো গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন আশু আলী। গত তিন বছরে আশু আলীর হাতে খুন হন প্রায় ৭ জন। বর্তমানে আশু আলীর গ্রুপে রয়েছে ৭ থেকে ৮জন সন্ত্রাসী। কক্সবাজারের ভয়ংকর এই খুনি আশু আলী এখনো অধরা। তার বাহিনীর কাছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জিম্মি রয়েছে।
কক্সবাজারের পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা রুমালিয়ারছড়াস্থ সমিতি বাজার, সিকদার বাজার, কক্সবাজার জেল কারাগারের পিছনের এলাকা, পল্লানিয়া কাটা, আমতলী পাহাড়ী এলাকা, সাতিহিত্যা পল্লীর ভিতরে, বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিমে ও আলীর জাহান গরুর হালদা এলাকায় আশু আলী বাহিনীর অবস্থান। এসব এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ তার বাহিনীর কাছে জিম্মি রয়েছে বলে জানা যায়। দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া সমিতি বাজারে মামুনের একটি দোকান রয়েছে। ওই মামুন দোকান থেকে আশু আলী বাহিনীর জন্য নিয়মিত খাবার ও বিভিন্ন মামলা সরবরাহ দেন তাদের আস্তানায়। এতে সহযোগিতা করেন সমিতি বাজার এলাকার আব্দুল মাবুদের ছেলে তারেক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশরাফ আলী ওরফে আশু আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, অস্ত্র ও ডাকাতি প্রস্তুতিসহ প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে। ওই এলাকায় সাদ্দাম বাহিনী নামের আরেকটি বাহিনী রয়েছে। গত এক মাস আগে সাদ্দাম বাহিনীর প্রধান সাদ্দামকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অপরাধীদের বিষয়ে কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, আশু আলীর বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ প্রায় একডজন মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এবিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র বলেন, আশু আলী চিহ্নিত অপরাধী। তার আলাদা বাহিনীও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা আছে। তাদের বেশ কিছু সদস্য ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে গত সোমবার (৩১ জুন) আশু আলী বাহিনীর হাতে খুন হন রুমালিয়ারছড়া এলাকার রায়হান বাহিনীর প্রধান রায়হান ও তার সহযোগি শাহেদ।
এছাড়া ২০১৭ সালে কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় বাধা দেওয়ায় আব্দুল কাদেরের একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেন ছিনতাইকারীর লিডার আশরাফ আলী ওরফে আশু আলী।
এর পরের বছর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজিবি ক্যাম্প ফরেস্ট অফিসের পিছনে কথা কাটাকাটির জের ধরে আশরাফ আলী, আমির খান ও সরওয়ার গ্যাং স্থানীয় মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে বাদশার পা কেটে দেয়। এরপর ২০১৯ সালের দিকে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান শহরের শীর্ষ অপরাধী আশু আলীর বস আমির খান। যার মামলা ছিল প্রায় এক ডজন মতো।
২০২০ সালের জুলাইয়ের দিকে শহরের সাবমেরিন এলাকায় বোনের বাসা থেকে বাবুর্চি হেলালকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে আশু আলী। এরপর একই সালের সেপ্টেম্বরের দিকে রাজমিস্ত্রি শফিউল্লাহকে কুপিয়ে হত্যা করে আশু আলী ও সাদ্দাম গ্যাং।
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর কক্সবাজার বাসটার্মিনাস্থল বিএডিসির খামার সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইকারী আশু আলীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন আনোয়ার হোছাইন নামে একব্যক্তি। ঘটনার পরপরেই আশু আলীর অন্যতম সদস্য মৃত আবুল কালামের ছেলে সালমানসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু অধরা সেই আশু আলী।
২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় দিনদুপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস কেমি নামের একজন কলেজছাত্রী ছিনতাইয়ের শিকার হন আশু আলীর হাতে। ২০২১ সালের জানুয়ারীর দিকে বিজিবি ক্যাম্পস্থ দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী সমাজ কমিটির ধর্ম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাবুকে গুলি করে হত্যা করে আশু আলী।