নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নের কলাতলী দক্ষিণ আদর্শগ্রামের সড়কের নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে ভাঙা রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে আদর্শগ্রামের ৫ হাজার মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাঁদায় ভরপুর হয়ে উঠে। জলাবদ্ধতায় চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে প্রতিনিয়ত। শুষ্ক মৌসুমেও ইজিবাইক (টমটম) নিয়ে যাতায়ত করতে কষ্ট হয়ে পড়ে। রাস্তা ঠিক না থাকায় সহজে কোনো গাড়িও এই এলাকায় যাতায়ত করতে চায় না।
ঠিক সময়ে গাড়ি না পাওয়ায় অসুস্থ রোগিদের হাসপাতালে নিতে কষ্ট হয় অনেক সময়। তবে এলাকার লোকজন আশাবাদী স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রাস্তাটি নিয়ে সরকারের নজরে আনলে হয়ত আলোরমুখ দেখবে সড়কটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ আদর্শগ্রাম এখনও অবহেলিত। বিগত ৩০ বছরে এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নানা অবকাঠামো গড়ে উঠেছে ওই এলাকায়। তবে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, ইট ও বালি দিয়ে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে রাস্তাটি নির্মিত হয়। প্রায় ১ হাজার পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে আর খবর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে রাস্তায় ইটের কিছুটা চিহ্ন রয়েছে। তবে যা রয়েছে তাও বিলীন হওয়ার পথে। লক্করঝক্কর রাস্তা দিয়ে ভারীত দূরের কথা হালকা কোন যানবাহনই চলাচল করতে পারে না। যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
এলাকার ছৈয়দ আকবর জানান, এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভঙ্গুর রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। জরুরী প্রয়োজনে যানবাহন চলাচল দায় হয়ে পড়ে।
একই এলাকার আব্দুল রহিম বলেন, রাস্তাটি এলাকার নিত্য নৈমত্তিক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে নেয়া যায় না। বৃষ্টি হলে বাড়ে দুর্ভোগের মাত্রা। ওইসময় কর্দমাক্ত মুসল্লীরা নামাজেও যেতে পারে না।
এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজার ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, কলাতলী দক্ষিণ আদর্শগ্রামের সড়কটি সংস্কারের জন্য আগামীতে বরাদ্দ চাওয়া হবে। বর্তমানে ওই এলাকার মসজিদের জন্য গাইডওয়াল তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় তিন লাখ টাকার বরাদ্দে গাইডওয়ালের কাজ চলছে।
চেয়ারম্যান টিপু আরও বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের কারণে সব বরাদ্দ বন্ধ ছিল। যদি বরাদ্দ বন্ধ না থাকতো তাহলে এতো দিনে দক্ষিণ আদর্শগ্রামের সড়কটির বরাদ্দ হয়ে যেতো। আশা করি আগামী বরাদ্দে ধারাবাহিকভাবে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হবে।