ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক
১৫ বছর ধরেই কক্সবাজার শহরে একচ্ছত্র ভাবে লাইসেন্স ছাড়াই জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে ‘আলগণি রেঁস্তোরা’। শহরের ব্যস্ততম এলাকা সদর মডেল থানার ঠিক সামনে এবং থানার পেছনে এবং থানা রাস্তার মাথায় অবস্থিতসহ তাদের রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। পর্যটকসহ সাধারণ লোকজনকে মুখরোচক খাবারের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও কাষ্টমারদের নজর কাড়ছে ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক ডেকোরেশন করে অবৈধ ভাবে রেঁস্তোরা’র ব্যবসা করে যাচ্ছেন সত্ত্বাধীকারী রুবেল উদ্দিন। অথচ হোটেল রেঁস্তোরা করতে গেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে বৈধ উপায়ে লাইসেন্স নিতে হয়। তাদের তিন প্রতিষ্ঠানের কোনটিতেই বৈধ উপায়ে ব্যবসায়ীক লাইসেন্স নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক রুবেল উদ্দিন লাইসেন্স থাকার কথা জানালেও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে দেখাতে পারেননি। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরাফাত ছিদ্দিকী জানান, আলগণি রেঁস্তোরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন এমন অভিযোগ আছে। বৃহস্পতিবার তাদের ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে তারা কোন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। তাই হোটেল ও রেঁস্তোরা আইন ২০১৪ এর অধীনে মামলায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরাফাত ছিদ্দিকী জানান, ১০ দিনের ভেতরে লাইসেন্স করবে বলে তাদের কথা রাখা হয়েছে। এদিকে এসব বিষয় নিয়ে আলগণি রেঁস্তোরা’র সত্ত্বাধীকারী রুবেল উদ্দিন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেনি। তবে ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সার্টিফিকেট থাকার দাবী করেন এই ব্যবসায়ী। যদিও ১৫ বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই কিভাবে নবায়ন করবে এমন প্রশ্নে কোন উত্তর দিতে পারেননি রুবেল।
এছাড়াও থানার সামনে আলগণি গাংচিল রেঁস্তোরাসহ তাদের তিন প্রতিষ্ঠানেরই লাইসেন্স না থাকার কথা এক পর্যায়ে স্বীকার করে এই প্রতিবেদককে নিউজ না করার অনুরোধ জানিয়ে তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে জুস খাওয়ার আমন্ত্রণ করেন রুবেল উদ্দিন। এদিকে মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করেন কক্সবাজার পৌরসভা, জেলা পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরাফাত ছিদ্দিকী।