নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় বিশাল একটি উচুঁ পাহাড়। পাহাড়ের দুই পাশে রয়েছে বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ খাদ। পাহাড়ে উঠার তেমন সুযোগও নেই। কিন্তু ওই পাহাড়ের উচুঁতে তড়িগড়ি করেই একটি একতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সম্প্রতি সময়ে। পাহাড়ের উচুঁতেই পাহাড় কেটে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। ওই ভবনে উঠতে তৈরি করা হয়েছে পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ সিঁড়িও। পাহাড়ের চারপাশে পলিথিনের আড়াল দিয়ে এখনো রাখা হয়েছে নির্মাণাধীন ভবনটি। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে পাহাড়ের নিচে বসবাসকারিরা আতঙ্কে রয়েছে। কক্সবাজারের কলাতলী ঝিলংজা ১নং ওয়ার্ডস্থ চন্দ্রিমা এলাকায় রাস্তার পাশে একটি বিশাল পাহাড়ের উপর ভবনটি করেন মাহাফুজুর রহমান ওরফে রুবেল (৩৫) নামের একব্যক্তি।
এবিষয়ে চলতি বছরের ৬ জুন ভয়েস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমে “পাহাড়ের উপর পাহাড় কেটে ঝুঁকিতে ভবন, নিচে বসবাসকারীরা আতঙ্কে” শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদের সূত্র ধরে ও এলাকাবাসীর অভিযোগে সম্প্রতি সেখানে পরির্দশনে যান পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম। সেখানে পাহাড়ের উপর পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ দালান নির্মাণ এবং সিঁড়ি নির্মাণের সত্যতা পান পরিবেশ অধিদপ্তর। এনিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, নেজাম উদ্দিন নামের একব্যক্তির কাছ থেকে পাহাড়ের উপর সরকারি জমিটি ক্রয় করেন মাহাফুজুর রহমান। এরপর পাহাড়ের উপরে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করে । সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে পাহাড়ের চারপাশে পলিথিনের আড়ালও দেওয়া হয়েছিল। পলিথিনের আড়ালে পাহাড় কাটা ও ভবন নির্মাণ চলে তড়িগড়ি করে।
পাহাড়ের নিচের এক দোকানদার বলেন, আসলেই পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বর্ষায় পাহাড়টির বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে। এখন পাহাড়ের উপরের একপাশে ভবন নির্মাণ করেছে মাহাফুজ। খুব ঝুঁকিতে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি ওই ভবনে উঠার জন্য পাহাড় কেটে সিঁড়িও তৈরি করা হয়েছে। সিঁড়ি দেখতেও ঝুঁকিপূর্ণ। এমনভাবে পাহাড়ের উপরে ভবন করা হয়েছে, নিচে বসবাসকারীরা আতঙ্কে রয়েছে।
এবিষয়ে মাহাফুজুর রহমান বলেন, নেজাম উদ্দিনের কাছ থেকে পাহাড়ি জমিটি ক্রয় করেছি অনেক আগে। এখন ঘর তৈরি করছি। প্রথমে বনবিভাগের লোকজন এসেছিল। বাঁধাও দিয়েছিল। পরে কোনো রকম তাদের সাথে যোগাযোগ করে কাজ শেষ করেছি।
আরও পড়ুন :