• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

পাহাড়ের উপর পাহাড় কেটে ঝুঁকিতে ভবন, নিচে বসবাসকারীরা আতঙ্কে

নিজস্ব প্রতিদেক / ৬৩৯ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় এভাবে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয় সিঁড়ি। ছবি: ভয়েস ওয়ার্ল্ড।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশাল একটি উচুঁ পাহাড়। পাহাড়ের দুই পাশে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ। পাহাড়ে উঠার তেমন সুযোগও নেই। কিন্তু ওই পাহাড়ের উচুঁতে তড়িগড়ি করেই একটি একতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সম্প্রতি সময়ে। পাহাড়ের উচুঁতেই পাহাড় কেটে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। এখনও কাজ চলমান। ওই ভবনে উঠতে তৈরি করা হয়েছে পাহাড় কেটে সিঁড়িও। পাহাড়ের চারপাশে পলিথিনের আড়াল দিয়ে এখনো রাখা হয়েছে নির্মাণাধীন ভবনটি। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে পাহাড়ের নিচে বসবাসকারিরা আতঙ্কে রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে- এমন মন্তব্য এলাকাবাসীর। কক্সবাজারের কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় রাস্তার পাশে একটি বিশাল পাহাড়ের উপর ভবনটি করেন মাহাফুজুর রহমান নামের একব্যক্তি।

জানা গেছে, নেজাম উদ্দিন নামের একব্যক্তি কাছ থেকে পাহাড়ের উপর সরকারি জমিটি ক্রয় করেন মাহাফুজুর রহমান। এরপর গত দুই মাস ধরে পাহাড়ের উপরে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে পাহাড়ের চারপাশে পলিথিনের আড়ালও দেওয়া হয়েছে। পলিথিনের আড়ালে পাহাড় কাটা ও ভবন নির্মাণ চলছে তড়িগড়ি করে।

পাহাড়ের নিচের এক দোকানদার বলেন, আসলেই পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বর্ষায় পাহাড়টির বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে। এখন পাহাড়ের উপরের একপাশে ভবন নির্মাণ করেছে মাহাফুজ। খুব ঝুঁকিতে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো নির্মাণ কাজ চলছে। প্রতি বছর যেভাবে এই পাহাড়টি ধসে পড়ে, সেভাবে এবারও পড়লে পুরো বিল্ডিংটি মানুষের বসতবাড়িতে ও দোকানে উপর পড়বে। তাছাড়া পাহাড়ের পানির স্রোতেও ভবনটি ধসে পড়তে পারে। বর্তমানে সেখানে পাহাড়ও কাটা হচ্ছে। বর্ষার পানির সাথে পাহাড়ি মাটিও এসে বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এমনকি ওই ভবনে উঠার জন্য পাহাড় কেটে সিঁড়িও তৈরি করা হয়েছে। সিঁড়ি দেখতেও ঝুঁকিপূর্ণ। এমনভাবে পাহাড়ের উপরে ভবন করা হয়েছে, নিচে বসবাসকারীরা আতঙ্কে রয়েছে।

চন্দ্রিমা এলাকার একজন সমাজসেবক বলেন, পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণের সময় বনবিভাগের লোকজন গিয়ে বাঁধা দিয়েছিল বলে শুনেছিলাম। কিন্তু পরে ঠিকেই ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এমনকি এক সপ্তাহ আগে নোহা গাড়ি নিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর কয়েকজন লোক এসেছিল। এসময় মাহাফুজের ভবনটি পরিদর্শন করে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। তিনিও ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান।

এবিষয়ে মাহাফুজুর রহমান বলেন, নেজাম উদ্দিনের কাছ থেকে পাহাড়ি জমিটি ক্রয় করেছি অনেক আগে। এখন ঘর তৈরি করছি। প্রথমে বনবিভাগের লোকজন এসেছিল। বাঁধাও দিয়েছিল। পরে কোনো রকম তাদের সাথে যোগাযোগ করে কাজ করছি। কিছু দিন আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কয়েকজন লোক তার ভবন পরিদর্শন করে বলে তিনি জানান। তারা ভবন উচ্ছেদ করবে বলেও জানিয়েছিল। সব কিছু স্বীকার করে এক পর্যায়ে নিউজ না করার অনুরোধ করেন তিনি।

এবিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মইনুল হক বলেন, পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমি শুনেছি বিভিন্ন মাধ্যমে। দ্রুত সময়ে সেখানে পরিদর্শন করে পাহাড় কর্তনকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নু-এমং মারমা মং বলেন, পাহাড় কেটে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ করা হবে। একই সাথে মামলাও দায়ের করা হবে।

বিষয়টি দেখে শুনে দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব (উপ সচিব) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন