এম.এ আজিজ রাসেল: পর্যটন নগরী কক্সবাজারে লকডাউল শিথিল করার পর স্বাভাবিকভাবে চলছে জীবনযাত্রা। দিন দিন করোনা সংক্রমণ বাড়লেও অনেকেই এখনো সচেতন নয়। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বেশিরভাগ মানুষ।
শহরের বড় বাজার, কালুর দোকান, বার্মিজ মার্কেট, বাজারঘাটা, পুরাতন পান বাজার, ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকা ও হাসপাতাল সড়ক ঘুরে দেখা যায়, করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা কম। অনেকেই মনে করছেন লকডাউন শিথিল হওয়ার পর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমে গেছে। এমন ধারণায় সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই নেই।
বেশির ভাগ লোক মাস্কও ব্যবহার করছে না। কেউ কেউ মুখে না পরে গলায় ঝুঁলিয়ে রেখেছে। জিজ্ঞেস করলে নানা ধরনের অজুহাত দিচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদ- প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন আইনের যথাযথ প্রয়োগের দিকটি গুরুত্ব না দেওয়ায় করোনার ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনেক দোকানি নিজেই প্লাভস বা মাস্ক না পরেই পণ্য কেনাবেচা করছেন। এই দৃশ্য অলিগলির দোকানগুলোর। ভিন্নতা রয়েছে মার্কেটে, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব মার্কেটে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন ক্রেতারা। কিন্তু মার্কেটে কেউ কেউ হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক পরেছেন, অনেকে দুটোর কোনোটিই পরছেন না। নেই হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা। তাদের অনেকে মাস্ক পরলেও কথা বলার সময় মাস্ক খুলে কথা বলছেন।
শহরের খাবার হোটেলগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যে যার ইচ্ছামতো খেয়ে চলে যাচ্ছেন। ওয়েটার বা ম্যানেজারের মুখে মাস্ক নেই, হাতে গ্লাভসও নেই।
বাজারগুলোতেও একই অবস্থা। বড় বাজার, কালুর দোকান, উপজেলা ও লিংকরোড বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন দৃশ্যই দেখা যায়নি। বাজারে ভীড়ের জন্য হাটাচলাও দায় হয়ে পড়ে। এখানে গেলে মনে হবে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শূণ্য কোটায় চলে গেছে। এখন আর কেউ আক্রান্ত হচ্ছে না।
বড় বাজার, বাজারঘাটা, পুরাতন পান বাজার, হাসপাতাল সড়ক ও ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকায় মানুষের আনাগোনা সব সময় বেশি থাকে। কিন্তু মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। অনেকের মাস্ক নেই। মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব।
সড়কে চলাচলরত অধিকাংশ সিএনজি-টমটম চালক স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা মানছে না। টমটমে নেয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো যাত্রী। বসা হচ্ছে ঘেষাঘেষি করে। কোন কথায় কর্ণপাত করেনা চালকেরা। এতে বাড়ছে ঝুঁকি।
স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের সব চেষ্টা ম্লান করছে অসচেতন ব্যক্তিরা। লকডাউন শিথিলে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানছে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন সুধী মহল।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান বলেন। বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। অপ্রয়োজনীয় চলাচল, ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। নিজেকে নিরাপদে রাখতে না পারলে এর মাধ্যমে প্রচুর মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে যাবে।