শাহিদ মোস্তফা, ঈদগাঁও:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশনে পরিবহন শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে চলা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে থানা ও আদালতে। এ ঘটনায় এক পক্ষ বাদী হয়ে থানায়, আরেক পক্ষ বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
আহত এক পক্ষের আবদুল খালেক নামের এক যুবককে ধৃত করে চিকিৎসা পরবর্তী আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ, অপর পক্ষে আহত মোঃ শরীফ নামের এক যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা আবদুল খালেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তার স্বজনরা। তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা করার পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসক। তার ব্রেইনে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।
জানা যায়, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে ঈদগাঁও মুখী বার আউলিয়া পরিবহন (মিনিবাস) ও মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে ওভারটেক করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই চালকরা বেপরোয়া গতিতে প্রতিযোগিতা মুলক গাড়ী চালিয়ে ঈদগাঁও বাসস্টেশনে চলে আসে। দুই পরিবহন চালকদ্বয়ের বাড়ি ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ওয়াহের পাড়া ও খোদাই বাড়ী এলাকায় হওয়ার সুবাদে মৃত দানু মিয়ার ছেলে মিনিবাস চালক মোঃ শাহজাহান এবং আবুল হোসেনের ছেলে মাইক্রোবাস চালক জসিম উদ্দীন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে গাড়ি দুটি পার্কিং করে পূনরায় বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন৷ পরে তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রাত ১১টার সময় ঈদগাঁও বাসস্টেশনের সৌদিয়া কাউন্টারের সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মাইক্রো চালক জসিম উদ্দীনের বাড়ির পার্শ্ববর্তী সুলতান আহমেদের ছেলে আবদুল খালেক ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে মিনিবাস চালক মোঃ শাহজাহানের পক্ষের লোকজন আবদুল খালেককে বেধড়ক মারধর করে,তাকে এলোপাতাড়ি মারধরের বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শীদের আবেগময় হওয়ায় শাহজাহান পক্ষের লোকজনকে ধাওয়া করে তারা। ধাওয়া করার পর তারা যাত্রী চাউনির সামনে গিয়ে ৩য় দফায় হামলায় জড়িয়ে পড়ে। সেখানেও সুলতানের ছেলে আবদুল খালেককে উপর্যপুরী হামলা করা হয়। এক পর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে ঈদগাঁওস্থ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রেরন করে। পরে পুলিশ কৌশল করে আহত আবদুল খালেককে ছুরিকাঘাতকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। সংগঠিত ঘটনায় শাহজাহানের ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে ৪জনের নামে ঈদগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আবদুল খালেককে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জানান ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল।
অফিসার ইনচার্জ জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা দায়ের করেছে শাহজাহানের পরিবার। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান ওসি।
এদিকে তৃতীয় পক্ষের আবদুল খালেককে বেধড়ক মারধর করার ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের করেছে তার বাবা সুলতান আহমদ। ১৩ ডিসেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (ঈদগাঁও) এ মোঃ শাহজাহানসহ ৮ জনের নামে ফৌজদারি দরখাস্ত দায়ের করেন৷ বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছে ঈদগাঁও থানাকে৷
মামলার বাদী সুলতান আহমদ জানান, তার ছেলে তৃতীয় পক্ষের হয়ে ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে বিবাদীরা কয়েক দফা হামলা করেছে, যা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে। তারপরও পুলিশ তার ছেলেকে আদালতে সোপর্দ করেছে, তাদের মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তার ছেলের উন্নত চিকিৎসা দরকার।
শাহজাহান পক্ষের মামলার বাদী সাদ্দাম হোসেন জানান,তারা দলবল নিয়ে বড় ভাই শাহজাহানকে হামলা করেছে, তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছোট ভাই মোহাম্মদ শরীফকে ছুরিকাঘাত করেছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবদুল খালেককে ছুরিকাঘাতকারী হিসেবে চিহ্নিত করলেও গণধোলাইতে কে বা কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে ধারণা করেন। বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।