ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে দায়িত্ব নিতে হবে। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশকে এ সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। মঙ্গলাবার (৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্ট্রাডিজ (বিআইআইএসএস) ও বঙ্গবন্ধু সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (কানাডা) যৌথভাবে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে দায়িত্ব নিতে হবে এবং মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যান্য জাতিকেও এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
বঙ্গবন্ধু সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের (কানাডা) নির্বাহী পরিচালক ড. কাউসার আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পুনরায় ক্ষমতা দখল করার ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১৩ লাখ রোহিঙ্গার ওপর চালিত নির্যাতন ও গণহত্যার বিচার করতে হবে। তাদের বসতভিটায় শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে মিয়ানমারকেই।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এমদাদ-উল-বারী। সমাপনী বক্তৃতা দেন কানাডার বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান।
এমদাদ-উল-বারী ওয়েবিনারে বলেন, মিয়ানমার রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকে জাতিগত সমস্যা চলে আসছে। রোহিঙ্গাদের জোর করে বিতাড়ন শুরু হয় ১৯৭৮ সাল থেকে। সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা বিতাড়িত করা হয় ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে। মিয়ানমারের ভেতরগত সমস্যা বর্তমানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির সম্মুখীন করে তুলেছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। উভয় রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে একই বছরের ২৩ নভেম্বর। এরপর প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াটি দুইবার ব্যর্থ হয়। ফলে দুই দেশের সীমানা ব্যবস্থা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা বাণিজ্য সংক্রান্ত অন্তত দশটি চুক্তি আশানুরূপ ফল লাভ করেনি। এ সমস্যা মিয়ানমার থেকে সৃষ্ট এবং মিয়ানমারকেই এর উপযুক্ত সমাধান বের করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এর মানবিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে এগিয়ে আসতে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষক, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম থেকে আগত ব্যক্তিরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে নানা মতামত দেন। সূত্র-সমকাল